কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান রাকিবকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার গোলাম রসুল শিহাব এবং সাগর কবির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এছাড়া রাফিন শেখ এবং শাহরিয়ার নাজিম জয় নামে দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড এবং এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. মিঠু সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জবানবন্দির আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে জানা গেছে আসামি মো. গোলাম রসুল শিহাব এবং মো. সাগর ফকির এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা এবং খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিনের নির্দেশে এটি ঘটানোর কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তারা স্বেচ্ছায় আদালতের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা একান্ত প্রয়োজন।
এরআগে রাকিব হত্যার প্রধান আসামির সহকারী সাগরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার দিন রাত সোয়া ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিবুল। এ সময় কয়েকজন যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি করেন। পরে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তারা পালিয়ে যান। সেসময় উপস্থিত লোকজন হামলাকারীদের একজনকে চাপাতিসহ ধরে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন।
পুলিশ বলছে, প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। হামলায় সাত থেকে আটজন অংশ নিয়েছিলেন। একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে হামলাকারীদের ভাড়া করে ঢাকায় আনা হয়েছিল।
রাকিবুলের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলায়। তার বাবা তারিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের কর্মচারী। রাকিবুল রাজধানীর বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম খোকন হত্যা মামলা করেন।








