২০০১ সালে প্রায় ১৩ কোটি টাকায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রার সমুদ্রপাড়ে প্রাসাদোপম বাড়ি ‘মান্নাত’ কিনেছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। যেটি শুধু বাড়ি নয়, এখন হয়ে উঠেছে মুম্বাইয়ের অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পট।
বলা হয়ে থাকে, মুম্বাই ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি মান্নাতের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবি না তোলা হয়!
শাহরুখ খানের নিজের ভাষায়, এটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের একটি। বাবা–মা হারানোর পর মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা চেয়েছিলেন তিনি। সেই আকাঙ্ক্ষারই ফল মান্নাত। যদিও শাহরুখ শুরুতে তার এই প্রাসাদের নাম দিয়েছিলেন ‘জান্নাত’, পরে সেটিই হয়ে ওঠে ‘মান্নাত’, যার অর্থ প্রার্থনা।
বর্তমানে ২৭ হাজার বর্গফুট জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মান্নাতের ভেতরে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। বিশাল বাগান, সুইমিং পুল, জিম, শাহরুখের ব্যক্তিগত অফিস, লাইব্রেরি, এমনকি ৪২ আসনের একটি ব্যক্তিগত সিনেমা হলও আছে, যেখানে সাজানো রয়েছে ক্লাসিক হিন্দি সিনেমার পোস্টার। মান্নাতে রয়েছে শাহরুখের পুরস্কার ও ট্রফি রাখার জন্য আলাদা কক্ষও।
রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন যদি শাহরুখ মান্নাত বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে এটি সহজেই ২০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যে হাতবদল হতে পারে। কেননা জমির আকার, অবস্থান এবং ‘সেলিব্রিটি প্রিমিয়াম’ মিলে এর দাম আকাশছোঁয়া। তবে কিং খান বহুবার জানিয়েছেন, মান্নাত তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা কখনোই বিক্রি করবেন না তিনি।
মান্নাতের আগের নাম ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’, যা ১৯১৪ সালে নির্মিত হয় এবং এটি বর্তমানে গ্রেড–৩ হেরিটেজ সম্পত্তি। মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখেই শাহরুখ এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন ছয়তলা একটি অ্যানেক্স।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এই মিশ্রণেই মান্নাত হয়ে উঠেছে বলিউডের সবচেয়ে আইকনিক বাড়িগুলোর একটি। মান্নাত বাদশাহর কাছে কেবলই একটি বিলাসবহুল বাংলো নয়, বরং এটি তার পরিবারের আবেগ, স্বপ্ন আর প্রার্থনার বাস্তব রূপ।- হিন্দুস্থান টাইমস







