সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে প্রকাশ্যে সংহতি জানিয়েছেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী শাবানা আজমি। ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও সিজেপির অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ট্রাকে চড়ার একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। শোনা যায়, আন্দোলনে যোগ দিয়ে পুলিশের টিয়ার গ্যাসের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসব বিষয় নিয়েই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সাক্ষাৎকার দেন গুণী এই অভিনেত্রী। তার সাক্ষাৎকারটি চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য ভাষান্তর করা হলো…
ওয়াংচুক ও সিজেপির আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার পর অনেকেই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?
আমাকে ভুলভাবে মোদিবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি অতীতেও কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছি। সমাজকর্মী সাফদার হাশমির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছি, মুম্বাইয়ের বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের দাবিতে পাঁচ দিনের অনশন করেছি। ১৯৮৯ সালে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে কংগ্রেস নেতা এইচ. কে. এল. ভগতের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছি। এমনকি সাফদার হাশমির মৃত্যুর পর বামপন্থীদেরও সমালোচনা করেছি। আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলাম না, ভবিষ্যতেও হব না।
সোনম ওয়াংচুক ও অভিজিৎ দীপকের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?
আমি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই যন্তর মন্তরে গিয়েছিলাম। তারা ২০ দিনের বেশি সময় ধরে অনশন করছে, অথচ তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তারা তো অন্যায় কিছু চাইছে না। তারা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছে। সরকারের উচিত তাদের কথা শোনা, তাদের আশা জোগানো—দমন করার চেষ্টা নয়।
আপনার এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিয়ে জাভেদ আখতারের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
১৫ জুলাই আমি ও জাভেদ আখতার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেখানে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আমরা চিঠিটি প্রকাশ করিনি, ব্যক্তিগতভাবেই বিষয়টির সমাধান চাইছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দুই দিনের মধ্যে উত্তর দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা অপেক্ষা করেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। এরপরই আন্দোলনে যোগ দিই।
যন্তর মন্তরে আপনার শারীরিক অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে। এখন কেমন আছেন?
আমি দীর্ঘদিন ধরে হাঁপানির রোগী। টিয়ার গ্যাসের কারণে আমার হাঁপানির সমস্যা দেখা দেয় এবং মাথা ঘুরতে শুরু করে। আমার সঙ্গে ইনহেলার ছিল, সেটি ব্যবহার করার পর সুস্থ বোধ করি। আমাকে কাছের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার আন্দোলনস্থলে ফিরে যাই এবং লাঠিচার্জের শিকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি। তাদের সাহস ও মনোবল আমাকে মুগ্ধ করেছে।
ওয়াংচুকের অনশন কি আপনাকে বস্তিবাসীদের দাবিতে আপনার পাঁচ দিনের অনশনের কথা মনে করিয়ে দেয়?
অবশ্যই। ১৯৮৬ সালে মুম্বাইয়ের সঙ্ঘর্ষ নগরের বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের দাবিতে আমি পাঁচ দিনের অনশন করেছিলাম। তখন অভিনেতা শশী কাপুর মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং সেদিনই সরকার আমাদের দাবি মেনে নেয়। কিন্তু এবার শিক্ষার্থীরা ২৩ দিন ধরে অনশনে রয়েছে, তবু সরকারের কেউ তাদের কথা শুনতে এগিয়ে আসছে না। জবাবদিহি দাবি করা কি অপরাধ? আমাদের সংবিধান বিশ্বের অন্যতম সেরা। সেই সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা এবং নাগরিকের ন্যায্য দাবিকে সম্মান জানানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।







