ঢাকার মিরপুর রোডে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাসলাইন মেরামতের কাজকে ঘিরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মিরপুর ও তেজগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে।
দারুস সালাম এলাকায় ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনে লিক শনাক্ত হওয়ার পর বুধবার মেরামত কাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় রাত থেকেই বহু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা।
গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার রাত থেকেই রান্না করতে পারেনি। চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের কবির হোসেন জানান, সকালে গ্যাস না পেয়ে পরিবারের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়। সন্তানকে স্কুলে পাঠানো ও অফিসগামী সদস্যদের প্রস্তুতিতে সমস্যা তৈরি হয়। বাধ্য হয়ে ওভেনে খাবার গরম করে দিন কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্বঘোষণা ছাড়া এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন।
নবদয় হাউজিংয়ের বাসিন্দা ওয়াসিব কামাল বলেন, রাত থেকেই গ্যাস না থাকায় সকালে রান্না সম্ভব হয়নি। পরিবারের সবাইকে শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে হয়েছে, এমনকি বাইরে থেকে খাবার আনতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, দারুসসালাম মেইন রোডে ১২ ইঞ্চি ব্যাস ও ৫০ পিএসআইজি চাপের একটি বিতরণ লাইনে বড় ধরনের লিক ধরা পড়ে। লিকের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ভাল্ব বন্ধ করতে হয়েছে, যার ফলে হঠাৎ করেই বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা মঈনুল হাসান বলেন, গ্যাস না থাকায় শিশুদের জন্য সকালের খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি; ঘরে যা ছিল, তা দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।
বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত থেকেই অনেক এলাকায় রান্না বন্ধ রয়েছে। কেউ শুকনো খাবার খেয়ে সময় কাটিয়েছেন, কেউ বাইরে খাবারের খোঁজে বের হয়েছেন। আগাম নোটিস না দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকে।
শ্যামলীর একজন বাসিন্দা বলেন, আমিনবাজার থেকে ভাল্ব বন্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে অবশ্যই জনসাধারণকে অবহিত করা উচিত ছিল; এভাবে হঠাৎ গ্যাস বন্ধ করে দেওয়া অনভিপ্রেত।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এর আগে জানুয়ারিতে মিরপুর রোডের লেক রোডের সামনে একটি ভাল্ব বিস্ফোরণের ঘটনায় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউ মার্কেট, হাজারীবাগ ও গাবতলী এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছিল। তখনও মেরামতের জন্য একাধিক ভাল্ব বন্ধ রেখে চাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে নতুন ভাল্ব স্থাপনের পর স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল।







