ছাত্রদের আন্দোলনের তোপে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ক্রমবর্ধমান জন অসন্তোষ এবং সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ।
সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, তার ৯ বছরের মেয়াদে প্রশাসন দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। এর আগে গত জুনেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
সংবিধান অনুযায়ী টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি সুযোগ না থাকায়, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থী হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়বেন ভুচিচ।
ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল।
২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মূলত এরপরই সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ দানা বাঁধে এবং ঐ দুর্ঘটনাকে ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দুর্ঘটনাটি সরকারের দীর্ঘদিনের শাসন ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের বেশ কয়েকজন পদত্যাগ করেন। তাতেও আন্দোলনকারীরা শান্ত হননি। গ্রীষ্মকাল জুড়ে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আগামী বছর ভুচিচের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। ফলে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়াবাসীকে দুবার ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।
আগামী ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি ছিল এই নতুন নির্বাচন। এই সংসদ নির্বাচনের এক মাসের বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।
নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে তিনি সংসদের স্পিকার এবং প্রগ্রেসিভ পার্টির একজন শীর্ষ সদস্য।
সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস একটি বিশেষ তথ্য জানিয়েছে। বিদায়ের আগে ভুচিচ সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। এদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী ও বেশ কয়েকজন দলীয় অনুগত ব্যক্তি রয়েছেন। গত দেড় বছরের বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট অপরাধে তাদের সন্দেহ করা হচ্ছিল।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে মূল লড়াই হবে। একদিকে থাকবে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টি। তাদের বিপক্ষে লড়বে শিক্ষার্থী পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী জোট স্টুডেন্টস উইন। এছাড়া ইউরোপিয়ান সার্বিয়া নামের একটি পশ্চিমা পন্থি বিরোধী জোটও নির্বাচনে অংশ নেবে।
ভুচিচ এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৭ সালে প্রথম এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।






