সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘স্কুপ’। সাড়া ফেলে দেয়া এই ওয়েব সিরিজের গল্পটি রোমহর্ষক। অন্ধকার জগতের খবর খুঁজতে গিয়ে এক সাংবাদিকের নিজেরই সেই জগতের সাথে জড়িয়ে পড়ার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ওয়েব সিরিজটি।
ভারতের খ্যাতিমান সাংবাদিক জ্যোতির্ময় দে’র খুনের ঘটনা নিয়ে প্রাক্তন সাংবাদিক জিগনা ভোরার লেখা বই ‘বিহাইন্ড দ্য বারস ইন বাইকুল্লা: মাই ডেজ ইন প্রিজন’-কে অবলম্বনে ছয় এপিসোডের সিরিজটি তৈরি করেছেন ‘স্ক্যাম ১৯৯২’ খ্যাত পরিচালক হংসল মেহতা। এতে অভিনয় করেছেন কারিশমা তান্না, মোহাম্মদ জিসান আইয়ুব ও প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি।
জিগনা ভোরার চরিত্রে অভিনয় করেছেন কারিশমা তান্না। আর সাংবাদিক জ্যোতির্ময় দে-র ভূমিকায় রয়েছেন প্রসেনজিৎ। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন মোহাম্মদ জিশান আয়ুব, হারমান বাওয়েজা ও তন্নিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায়।
খুব যত্ন করে তৈরি এই সিরিজটি লক্ষ্যের চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করতে পেরেছে। প্রতি এপিসোড শেষ হয় দারুণ উত্তেজনা নিয়ে যা পরের এপিসোড দেখতে বাধ্য করে। একটি সিরিজে যা যা থাকা উচিত তার সব উপাদানই আছে দারুণ প্লটে তৈরি এই এই সিরিজটিতে। মার্টিন স্করসিসের ছবির শেষটা এরকম তিক্ত-মিষ্টি হয়, সেরকম অনুভূতি পাওয়া যায় পুরো ‘স্কুপ’ জুড়ে। এই সিরিজে আছে শেখার মতো অনেক কিছুই।

সিরিজের শুরুটা দারুণ, অন্য দশটি বলিউড সিনেমার মতোই। কিন্তু ধীরে ধীরে গল্পের যত গভীরে প্রবেশ করা হয়, ততই সমাজের ভয়ানক সত্যগুলো সামনে আসতে থাকে। সিরিজে আছে মাফিয়া, পুলিশ, রাজনীতি ও পরিচিত মুখ সহ উপভোগ করার সব উপাদান।
সিরিজের গল্পে একজন শীর্ষস্থানীয় ক্রাইম রিপোর্টার খুন হয়। একাধিক অপরাধ ফাঁস করেছিলেন তিনি। খুনকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তদন্ত। ছোটা রাজনকে খুনের জন্য দায়ী করা হয়। কিন্তু ঘটনা মোড় নেয় আরেক দিকে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এক খ্যাতিমান ক্রাইম রিপোর্টারকে।
২০১১ সালের ১১ জুন ভরদুপুরে মুম্বাইতে বাইকে করে যাওয়ার পরে গুলিবিদ্ধ হন ভারতীয় গণমাধ্যম ‘মিড ডে’-এর প্রখ্যাত সাংবাদিক জ্যোতির্ময় দে। বাড়ি থেকে অফিস যাওয়ার পথে তার পিছু নিয়েছিল একটি বাইক। সেই বাইক থেকেই গুলি ছুঁড়ে ঝাঁঝরা করা হয় তাকে। ওই ঘটনায় ২০১৮ সালে ছোটা রাজনসহ ৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

দাউদ ইব্রাহিমের ডি কোম্পানি থেকে আইপিএল বেটিং, একাধিক অপরাধ ফাঁস করেছিলেন জ্যোতির্ময় দে। তার শত্রুর সংখ্যা ছিল অনেক। দাউদের প্রাক্তন শাগরেদ ছোটা রাজনই এই খুনের পিছনে দায়ী বলে জানা যায়। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা এবং তামিলনাড়ু থেকে ছোটা রাজন গ্যাংয়ের সাতজন সদস্যকে গ্রেফতার করে মুম্বাই পুলিশ। তবে ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয় যখন পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ক্রাইম রিপোর্টার জিগনা ভোরাকে গ্রেফতার করে।
মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের একাধিক খবর ফাঁস করে সংবাদমাধ্যম জগতে জিগনা খ্যাতি পেয়েছিলেন। কিন্তু তার থেকে খ্যাতিতে এগিয়ে ছিলেন জ্যোতির্ময় দে। পুলিশের জানিয়েছিল, পেশাগত রেষারেষির কারণেই ছোটা রাজনকে জ্যোতির্ময় দের একাধিক তথ্য পাচার করেন জিগনা। এমনকি তার বাইকের নম্বরও ছোটা রাজনকে দিয়েছিলেন জিগনা ভোরা। জে ডে’র হত্যার জন্য তিনিই রাজনকে উসকেছেন। বেশ কিছুদিন জেলবন্দি থাকার পর জামিন পান তিনি। পরে ২০১৮ সালে জিগনাকে বেকসুর খালাস করে আদালত। উচ্চ আদালত জানিয়েছিল, জিগনা ভোরার কথায় ছোটা রাজন খুন করেছে, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু বাইকের নম্বর দেয়ার কারণে তাঁকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।
সূত্র: মার্টিনসিআইডি








