সৌদি আরব ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সামরিক অ্যাটাশে ও দূতাবাসের চার কর্মীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। সৌদি ভূখণ্ডে পুনরাবৃত্ত ইরানি হামলার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ইরানের দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের আরও তিন সদস্যকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি (পারসনা নন গ্রাটা) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সংঘাত চলাকালে তেহরান সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে, যেখানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের ওপর শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
তবে দেশটির পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদও একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে।
গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যখন কাছাকাছি আরামকো-এক্সন যৌথ মালিকানাধীন স্যামরেফ শোধনাগারের কাছে একটি ড্রোন পড়ে।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাংকার চলাচল বাধাগ্রস্ত করায় ইয়ানবু বন্দর বর্তমানে সৌদি আরবের একমাত্র কার্যকর রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ইরানের প্রতি আস্থা ভেঙে গেছে এবং নিজেদের রক্ষার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে শক্তিশালী সক্ষমতা রয়েছে।
শনিবারের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এর গুরুতর প্রভাব পড়বে।
এর আগে বুধবার কাতারও দোহায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা অ্যাটাশেদের অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে তাদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।


