শরাফ আহমেদ জীবন, যিনি অভিনেতা হিসেবে এখন পরিচিতি পেলেও বহু আগে বিজ্ঞাপন ও নাটক নির্মাতা হিসেবে সুপরিচিত। তার পরিচালিত ‘চৌধুরী সাহেবের ফ্রি অফার’, ‘সিরিয়াস কথার পরের কথা’, ‘হাওয়াই মিঠাই’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’র মতো একাধিক দর্শক নন্দিত নাটক আছে।
তবে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-খ্যাত নির্মাতা কাজল আরেফিন অমির কারণে জীবন নির্মাতা পরিচয় ছাপিয়ে হয়ে উঠেছেন অভিনেতা! এ জন্য তিনি বোরহান ভাই, লাবু কমিশনার, ক্রাইম রিপোর্টার হালিম চরিত্রের বদলৌতে ব্যাপকভাবে পরিচিতি অর্জন করেন। জীবনের মূল শিকড় যে নির্মাণে সেটি হয়তো অনেকেই ভুলতে বসেছেন!
নতুন খবর হচ্ছে, নির্মাতা হিসেবে নিজের প্রথম সিনেমা নির্মাণ করলেন শরাফ আহমেদ জীবন। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তার সিনেমাটির নাম ‘চক্কর ৩০২’।
গেল সপ্তাহে নিজের পরিচালিত প্রথম সিনেমার নাম ঘোষণা করেন জীবন। এতে কারা অভিনয় করবেন সেটি পরিস্কার না করলেও শোনা যাচ্ছে, তার পরিচালিত সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকবেন মোশাররফ করিম। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি আরও মোটা অঙ্কের অর্থ লগ্নী করা হয়েছে এতে।
সবকিছু কিছু ঠিক থাকলে আসন্ন রোজার ঈদে মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, সংকট এবং দ্বন্দ্বের গল্পে নির্মিত ‘চক্কর ৩০২’ দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন।
এতে কারা কারা অভিনয় করলেন জানতে চাইলে এড়িয়ে গেলেন জীবন। এতটুকু জানালেন, তিনি অভিনয় করেননি। চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, একটি দৃশ্যেও আমি অভিনয় করিনি এটা নিশ্চিত। কারণ, আমার পরিচালিত সিনেমায় অভিনয়ের চরিত্র খুঁজে পাইনি। যদি নিজে করার মতো চরিত্র পেতাম, তাহলে সেটা যদি প্রধান চরিত্রও হতো- অবশ্যই করতাম। যাদের নিয়েছি তারা প্রত্যেকে চরিত্র অনুযায়ি পারফেক্ট।
জীবন অনুভব করেন, নির্মাতা কিংবা অভিনয় দুইভাবে তাকে পছন্দ করেন এবং তারা তার শ্রম সম্পর্কে জানেন। এও জানে, জীবন গল্প বলার সুযোগ পেলে ঠিকভাবে বলতে পারবেন। জীবন বলেন, শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই বিশ্বাসের রেসপন্স পাচ্ছি। শুধু নাম ঘোষণা করে তো আর সিনেমাটি বৃহৎ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবো না। এজন্য সিনেমা রিলিজ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে যাদের প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলাম সেগুলো পেয়েছি।
সিনেমা নির্মাণে চ্যালেঞ্জ কী? জানতে চাইলে জীবন বলেন, যে গল্প বলতে চাই সেটি ঠিকভাবে বলতে পারছি কিনা! গল্প এবং নির্মাণ মুন্সিয়ানা দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হলো কিনা এটাই চ্যালেঞ্জ। চরিত্রগুলো দিয়ে গল্প যদি সিনেমা হলে দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তখন সেই সিনেমা সার্থক। এর বাইরে যতো চাপাবাজি করি বা ভালো টিজার-ট্রেলার প্রকাশ করি না কেন দর্শক পছন্দ না করলে কোনো লাভ হবে না।
‘চক্কর ৩০২’ দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যাপারে নির্মাতা হিসেবে আপনি আত্মবিশ্বাসী? জীবন চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, “হয়তো কিছু মানুষ বলবে ব্রিটিশ আমলের পরে এতো ভালো সিনেমা হয়নি, আবার কেউ বলতে পারে তাদের কাছে ভালো লাগেনি।”
তিনি বলেন, ‘চক্কর’ সিনেমাটি যেন ভালো হয়, তারজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এ ব্যাপার আমি কনফিডেন্ট। তবে আমি ওভার কনফিডেন্ট না, কারণ শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির মূল্যায়ন করবে দর্শক। তারা যদি সিনেমাটির সাথে সংযোগ স্থাপন না করতে পারেন, তাহলে আমার আত্মবিশ্বাস দিয়ে কোনো কাজে আসবে না। তাই সিনেমাটি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়ার অপেক্ষায় আছি। বাকিটা সময় বলে দেবে!








