চুয়াডাঙ্গার খাদ্য গুদামে গমের ট্রাকে বালির বস্তা ও কংক্রিট পাওয়ার ঘটনায় ট্রাকের ৩ হেলপারকে সোমবার বিকেলে আটক করেছে পুলিশ।
খুলনা ৭নং জোড়াঘাট এলাকার শাহাদত হোসেনের ছেলে হৃদয় (১৯), একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৩) ও ঝালকাঠি কাঁঠালিয়া ভান্ডারিয়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে হোসেন আলীকে (২০) এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে।
জানা যায়, বিদেশ থেকে আমদানি করা গম ভর্তি ২ টি কাভার্ড ভ্যান ও ৪টি ট্রাক থেকে ২৮ টি বালির বস্তা ও ৬ টি বড় কংক্রিট পাওয়া যায়। রোববার সদর খাদ্যগুদামে গম খালাসের সময় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি টের পান।
সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, সরকারী মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে জোনাকি পরিবহন, সরকার এন্টারপ্রাইজ ও সানরাইজ জুট ট্রেডার্স, এই তিন প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলা নং-০৪ তারিখ-০৭.০২.২০২৩।
এর আগে গম খালাসের সময় গাড়িতে বালি ও কংক্রিট পাওয়ায় চালক এবং সহকারীদের রোববার রাতে একটি ঘরে নজরদারিতে রাখা হয়। সোমবার সকালে চা খাওয়ার কথা বলে বের হয়ে চালকরা আর ফিরে আসেননি। চালক ও সহকারীরা পালিয়ে গেলেও সমস্যা হবে না। গাড়ির মালিকদের মাধ্যমে তাদের ধরে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা গম খুলনায় পৌঁছানোর পর ৪ নম্বর ঘাট থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ২ টি কাভার্ড ভ্যান ও ৪ টি ট্রাকে করে চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। চালান অনুযায়ী ৬ টি গাড়িতে মোট ১ হাজার ৬৩৩ বস্তায় ৯৯ হাজার ৮১৬ কেজি গম ভর্তি করা হয়। গম ভর্তি গাড়িগুলো রোববার ভোরে চুয়াডাঙ্গার খাদ্যগুদামে পৌঁছায়। গমসহ গাড়িগুলো ওজন করে গুদামে ঢোকানো হয়। এরপর একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গম খালাসের সময় ৭ টি বালির বস্তা পাওয়া যায়। এরপর একে একে সব কয়টিতেই তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ বালি ও বড় বড় কংক্রিটের টুকরা পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় জেলা খাদ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শাখা পৃথক ৩ টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান জানান, সোমবার রাতে খাদ্য গুদামে ট্রাক ফেলে চালক ও হেলপাররা পালিয়েছে। তবে ৩ জন হেলপারকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ৪ টি ট্রাক, ২ টি কাভার্ড ভ্যান, ২৮ টি বালির বস্তা ও ৬ টি বড় বড় কংক্রিট জব্দ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ একেএম শহিদুল হক জানান, ৬টি গাড়ীতে ৯৯ হাজার ৮১৬ কেজি গম আসার কথা। খালাসের পর পাওয়ায় যায় ৯৬ হাজার ৪৫ কেজি। ঘাটতি ৩ হাজার ৭৭১ কেজি। যার বাজার মূল্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬০ টাকা।








