গত কয়েক বছরে জীবনে একের পর এক ঝড় সামলাতে হচ্ছে সামান্থাকে। মায়োসাইটিস নামে এক বিরল অটো ইমিউন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেত্রী। শারীরিক অসুস্থতার জন্য বেশ কিছু মাস কাজ থেকে বিরতি নিতে হয়েছে তাকে। অভিনেত্রী এবার জানালেন স্বেচ্ছায় নয়, চাপে পড়ে নিজের অসুখের বিষয়টি জনসম্মুখে আনতে হয়েছে তার।
অসুস্থতা নিয়ে সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘অসুস্থতার খবরটি জনসম্মুখে আনার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে আমাকে। সেই সময়ে আমার নারীকেন্দ্রিক একটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। খুবই অসুস্থ ছিলাম তখন। কঠিন ছিল বিষয়টি, আমি প্রস্তুত ছিলাম না। অনেক রকম গুঞ্জন রটছিল, ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। ছবির প্রচারণার জন্য প্রযোজকদের আমাকে দরকার ছিল, নাহলে সিনেমা মুখ থুবড়ে পড়বে। তাই আমি একটি সাক্ষাৎকার দেই। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে আমাকে আগের মতো সুস্থ দেখাচ্ছিল না। উচ্চ মাত্রার ওষুধ সেবন করে নিজেকে ঠিক রাখতে হয়েছে। সেই সময়ে আমাকে চাপ দেয়া হয় বিষয়টি জানানোর জন্য।’
এরপর অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাকে তখন মানুষ সিমপ্যাথি কুইন ডাকা শুরু করে। অভিনেত্রী হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে অনেক ভুগতে হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমাকে নিয়ে লেখা কুরুচিপূর্ণ প্রতিবেদনগুলো দেখার আগে উদ্বেগ হতো, কী লেখা হয়েছে আমাকে নিয়ে তা ভেবে। তারা আমাকে যতবার অভিযুক্ত করতো, আমি ততবার নিজেকে প্রশ্ন করতাম, চিন্তা করতাম বিষয়টি নিয়ে। তারাই আমাকে আজকের এই মানুষটি বানিয়েছে, যাকে নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি। মানুষ অনেক অনেক কষ্টের মাঝে দিয়ে যায়, তাদের সেই কষ্ট প্রকাশ করার একটি মাধ্যম লাগে। আমার মনে হয় সামাজিক মাধ্যম সেটি। আমার তাই মনে হয়।’
সামান্থা জানান, তার ‘ইমপোস্টর সিনড্রম’ আছে। সাফল্যের চূড়ায় গিয়েও তিনি সময়টাকে উপভোগ করতে পারেননি। কারণ তার মতে হতো, একদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখবেন তার তারকা খ্যাতি নেই।
সামান্থাকে সর্বশেষ দেখা গেছে বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে ‘খুশি’ ছবিতে। ছবিটি নির্মাণ করেছেন শিবা নির্ভানা। এরপর অভিনেত্রীকে দেখা যাবে ‘সিটাডেল’-অবলম্বনে তৈরি ভারতীয় অ্যাকশন সিরিজে। তার বিপরীতে অভিনয় করবেন বরুণ ধাওয়ান।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস







