‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে সিনেমায় অভিষিক্ত হয়েছিলেন প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ। প্রথম ছবিতে তিনি সাফল্য পেয়েছিলেন। এটি ছিল বলিউডের ব্লকবাস্টার ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর রিমেক, সেখানে ছিলেন আমির খান। রিমেক হলেও সালমান শাহ এতে আমির খানকে নকল করতে চাননি। বরং তিনি নিজস্ব স্টাইলে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এ নিজেকে দর্শকদের সামনে হাজির করেন।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির ১৭ দিন আগে দেওয়া দেয়া ভিডিও ইন্টার্ভিউতে এমনটা বলেছিলেন সালমান শাহ। শুক্রবার ৬ সেপ্টেম্বর তার ২৮তম মৃত্যুদিন। এদিনে কৃতাঞ্জলি ইউটিউব চ্যানেলে সালমান শাহর একটি ইন্টার্ভিউ প্রকাশিত হয়। ৩ মিনিটের সেই ইন্টার্ভিউতে সালমান শাহ বলেন, চ্যালেঞ্জ নিয়ে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এ অভিনয় করেছিলাম। আমির খানকে নকল করে নয়, চেয়েছিলাম আমার স্টাইলে করতে।
”একজন আর্টিস্ট যে কোনো ক্যারেক্টারে অভিনয় করবে। প্রশ্ন হচ্ছে প্রথমে কেন আমি কপিরাইট নেয়া ফিল্মে হিরো হচ্ছি। ছবিটি বোম্পেতে বক্স অফিস হিট ছিল। পরে ওয়ার্ল্ডে যেখানে চলেছে সবখানে হিট করেছে। বাংলাদেশে যখন কপিরাইট এনে আমাকে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, প্রথমে ভেবেছিলাম আমি এই ক্যারেক্টারে কত খানি কি করতে পারবো। প্রথমে এই ক্যারেক্টার করার পর আমির খান রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে যায়। সে খুব ভালো অভিনয় করেছিল। এটা আমার মাথায় ছিল। যখন আমি করার সিদ্ধান্ত নেই আত্মবিশ্বাস ছিল ‘আই ক্যান ডু মাচ বেটার’।”
দুর্লভ সেই ইন্টার্ভিউতে সালমান শাহ বলেন, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি করাটা আমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করি। কারণ, আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, নিজস্ব স্টাইলে আমি দর্শকের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবো। দর্শকরা যেন মনে করেন, আমির খানের মতো আমাদের দেশেও একজন আছেন যিনি আরও বেটার কাজ করতে পারেন। আমি অভিনয়ের সময় আমির খানের দেখাদেখি বা ফলো করে কিছু করিনি। আমার মধ্যে যা আছে ব্যক্তিগতভাবে তাই প্রকাশ করেছি। যেটাকে বলা হয় ‘সেলফ ক্রিয়েটেড অ্যাক্টিং’। কার অভিনয় হয়েছে সেটা দর্শক ভালো বিচার করবেন। যদি আমার অভিনয় দর্শকের ভালো লাগে আমি অত্যন্ত খুশি হবো, খারাপ লাগবে ভবিষ্যতে ভালোর চেষ্টা করবো।
১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখেন সালমান শাহ। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে তিন বছরে উপহার দেন ২৭টি ব্যবসাসফল ছবি। সবচেয়ে বেশি জুটি বাঁধেন মৌসুমি এবং শাবনূরদের সঙ্গে। তবে ধূমকেতুর মতো আসা তৎকালীন এই সুপারস্টারের হঠাৎ মৃত্যুর খবরে হতবাক হয়ে যায় গোটা দেশের মানুষ। ১৯৯৬ সালে এই দিনে রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। দুই যুগ পর চূড়ান্তভাবে পিবিআই পুলিশ জানায়, সালমান শাহ্ আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে সালমান শাহর এই মৃত্যু নিয়ে আজও রহস্য রয়ে গেছে। অনুসারীদের দাবী, সালমান আত্মহত্যা করেননি, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।








