দিন যত যাচ্ছে ততই ঘোলাটে হচ্ছে সালমান খানের সঙ্গে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের শত্রুতার নাটক। কিছুদিন আগেই সালমান খানের কাছে ৫ কোটি রুপি চেয়ে হুমকি বার্তা দিয়েছিলেন হুসেন শেখ মৌসিন (২৪) নামের জামশেদপুরের এক সবজি বিক্রেতা। যাকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ।
তারই মাঝে জানা গেল, বিষ্ণোইদের সাথে সব বিরোধ নাকি টাকার বিনিময়ে এক সময় মিটিয়ে নিতে চেয়েছিলেন সালমান খান! ফাঁকা চেকবই নিয়ে নাকি নিজেদের ইচ্ছামত টাকার অঙ্ক বসানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন এই সুপারস্টার, এমনটাই দাবি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের পরিবারের।
কারাগার থেকে গ্যাং চালানো লরেন্সের চাচাতো ভাই রমেশ এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কৃষ্ণ হরিণ হত্যার ঘটনায় পুরো বিষ্ণোই সম্প্রদায়ই লরেন্সের পাশে আছে। তবে হরিণ হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সালমান খান টাকা দিতে চাইলেও তারা নিতে অস্বীকার করে।
“যখন সালমান খান কৃষ্ণ হরিণ হত্যা করেছিল, তখন বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের রক্ত টগবগ করে ফুটছিল। আমরা বিষয়টি আদালতের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু যদি আমাদের সম্প্রদায়কে নিয়ে উপহাস করা হয়, তবে আমাদের ক্ষুব্ধ হওয়াটা স্বাভাবিক। আজ পুরো বিষ্ণোই সম্প্রদায় লরেন্সের পাশে দাঁড়িয়েছে,” বলেছেন রমেশ।
একাধিক মামলার আসামী গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে গুজরাটের সবরমতী কারাগারে বন্দী আছেন। কৃষ্ণহত্যার ঘটনার পর সালমান বেশ কয়েকবার লরেন্স বিষ্ণোই এর কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানা যায়।
বাবা সিদ্দিকীকে হত্যার পর সালমান স্পটলাইটে আসেন মূলত ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে তার কৃষ্ণহরিণ শিকারকে কেন্দ্র করে। রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের ফাঁকে ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর দুইটি কৃষ্ণ বা কালো হরিণকে গুলি করে শিকার করেন বলে অভিযোগ। এর ঠিক ১২ দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বরে ঘোডা এলাকার একটি ফার্মে আরেকটি কৃষ্ণহরিণ শিকার করেন বলিউডের ‘ভাইজান’।
বিলুপ্ত প্রজাতির এ হরিণ বিষ্ণোই ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। তারা মনে করেন, হিন্দুদের বিষ্ণোই গোত্রের প্রবক্তা ভগবান জাম্বেশ্বরের পুনরুত্থানের প্রতীক কৃষ্ণহরিণ। বিষ্ণোই গ্যাং তাই ধর্মীয় পবিত্রতা নষ্টের কারণ দেখিয়ে সালমানকে হত্যা করতে চাইছে।
সালমান খানের বাড়ি পূর্ব বান্দ্রায়, যেটি আবার সিদ্দিকির নির্বাচনী ও বেড়ে ওঠার এলাকা। সালমানের ওপর এ বছর এপ্রিলে হামলার পর বাবা সিদ্দিকি তার নিরাপত্তার জন্য পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই জের হিসেবে তাকে হত্যা করা হল বলে মনে করছেন কেউ কেউ।- হিন্দুস্থান টাইমস








