নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে রাজধানীতে ভক্তদের মানববন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সালমান ভক্তদের ঢল নামে।
এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া এ মানববন্ধনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত যোগ দেন। দ্রুত সালমান হত্যার বিচার চেয়ে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ছিলো তাদের হাতে।
মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়—
১. পিবিআই প্রতিবেদনে যে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল তা পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে। র্যাবের তদন্ত স্থগিত করে কেন পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল? পিবিআইয়ের পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনে যেই অসঙ্গতিগুলো ছিল তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করতে হবে।
২. মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। আসামিদের আত্মগোপন বা পলায়ন প্রমাণ করে তারা অপরাধী। নিরপরাধ কোন ব্যক্তি পালিয়ে থাকে না। মহামান্য হাইকোর্টের কাছে ভক্তবৃন্দের বিনীত আবেদন থাকছে যে, পালিয়ে থাকা আসামিরা যেন আগাম জামিন না পায়। তাহলে আইন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিদের আগাম জামিন দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. আসামিদের অদৃশ্য পেশী-শক্তির প্রভাবে ২৯টি বছর ধরে মামলাটি মিথ্যার মোড়কে আটকে ছিল। যা একটি দীর্ঘ সময়। তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আর যেন বিলম্ব না হয় এরজন্যে দেশের চলমান আইনের নিয়মানুসারে হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. বাংলাদেশ সরকারের কাছে সালমান শাহ ভক্তবৃন্দের আবেদন, বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের ইন্টারপোলের সহায়তায় খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে দেশে এনে হত্যা মামলাটির বিচারকার্য অতি দ্রুত সম্পন্ন করে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রাণের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
৫. ডিবি ও সিআইডি থেকে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে কেন ভুল রিপোর্ট দেয়া হয়েছিল, সেটারও সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সালমান শাহর মরদেহ। এরপর থেকে রহস্য ঘিরে রয়েছে তার মৃত্যু নিয়ে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন আত্মহত্যা বললেও পরিবার ও ভক্তরা শুরু থেকেই একে হত্যাকাণ্ড দাবি করে আসছেন।
সম্প্রতি রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা, চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর হোসেন কুমকুম নতুন করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও অভিনেতা ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মাত্র ২৫ বছরের জীবনে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে রোমান্টিক হিরোর নতুন ধারা সূচনা করেছিলেন সালমান শাহ। নব্বইয়ের দশকের সেই তারকা আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে জীবন্ত, আর তার মৃত্যুর বিচার দাবিতে ২৯ বছর পরেও আজও তারা রাজপথে।








