চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে চারজন তরুণ হাতে লেখা ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেছেন। শনিবার বিকেলে টিএসসি’র রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দাবী করে সচেতন ছাত্র সমাজের পক্ষে তারা এই মানববন্ধন করে জানান, শাকিব খানের ব্যক্তিগত জীবনে যা ঘটছে তা যুব সমাজকে প্রভাবিত করতে পারে! সেই আশঙ্কায় তারা মানববন্ধন করেছেন। তবে সেই মানববন্ধনে দাঁড়ানো আরেকজনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কেন মানববন্ধন করছেন জানেন না।
তিনি এও জানান, শাকিব খান আসলে কী করেছেন তা ‘না জেনেই’ মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন। আরও জানান, দাঁড়াতে বলা হয়েছে তাই তিনি দাঁড়িয়েছেন।
কে দাঁড়াতে বলেছে জানতে চাইলে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি বলেন, আমি আসলে কিছুই জানি না। পরের প্রশ্ন করার আগেই তড়িঘড়ি করে ওই স্থান থেকে কেটে পড়েন। ওই মানববন্ধনে এক কিশোর অংশ নেয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কে দাঁড় করিয়েছে এখানে? কিশোর উত্তর দেয়, এক লোক।
বিস্তারিতভাবে সে জানায়, শাকিব কি দোষ করেছে সে নিজেও জানে না। এখানে এক ভাই ছিল সেই দাঁড় করিয়েছে। ওই কিশোর নিজের ভুল হয়েছে বলেই সরে পড়ে।
এদিকে, রাজু ভাস্কর্যের পাশেই দাঁড়ানো টিম পজেটিভের সদস্য পরিচয় দেওয়া এক যুবক উল্টো সুরেই বললেন, শাকিব খান বাংলা চলচ্চিত্রে অনেক কিছু করছে। এখন তাকে নিয়ে মাথাব্যাথা কেন? এসব তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আরো অনেক নায়িকাই তো অনেক কিছু করে তাদের নিয়ে তো কেউ মাথা ঘামায় না।
আপনি কি শাকিব খানের ভক্ত? এমন প্রশ্নের জবাবে যুবক বলেন, আমি ভক্ত না। আমি পজেটিভ বিষয় নিয়ে কাজ করি। যা সত্য তাই বললাম। এমন মানববন্ধনের কোনো ভিত্তি নেই।
একাধিকবার খোঁজ নিয়েও টিএসসি কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’ নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহীন বলেন, সচেতন ছাত্র সমাজ নামে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক কোনো সংগঠন নেই। এই সংগঠনের নাম আগে কখনো শুনিনি। এগুলো ভূয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিক আবদুল লতিফ বলেন, শাকিব খানের নামে কিছু করলেই ভিউ হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হওয়া যায়। ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবেই কয়েকজন এসব করেছে। তবে এসব মানববন্ধনের শক্তিশালী কোনো ভিত্তি নেই।
”এমনকি সচেতন ছাত্রসমাজ নামে কোনো সংগঠন আছে বলে জানা নেই।”








