৩৭ বছর পর ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের অলিম্পিয়ান সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর। দীর্ঘ ৩৪ কিলোমিটার সাঁতারের এ পথ বেশ কঠিন। স্রোত, গতি বা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে কখনও তা নির্ধারিত দৈঘ্যের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এজন্য এ চ্যানেল পাড়ি দেয়াকে সাঁতারের মাউন্ট এভারেস্ট বলেছেন সাগর।
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে যাওয়ার আগে অলিম্পিয়ান সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর কথা বলেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে। সেখানে তিনি জানান, ‘মূলত ইংলিশ চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ধরা হয় ৩৪ কিলোমিটার। কিন্তু কেউ কখনও সরাসরি ৩৪ কি.মি সাঁতরাতে পারে না। কারণ এখানে স্রোত থাকে, ঢেউ থাকে, তো এটা প্রায় ৪০ কি. মি কম বেশি হয়। কখনও কখনও এটা ৫০-৬০ কিলোমিটারও হয়ে যায়। সমুদ্রের জন্য এর দৈঘ্য ঠিক করা যায় না, কিন্তু নির্ধারিত যেটা ধরা হয় তা ৩৪ কি. মি.।’
সাঁতারের এ ইভেন্টের গুরুত্ব বোঝাতে সাগর বলেন, ‘ইংলিশ চ্যানেলকে আসলে ধরা হয় মাউন্ট এভারেস্ট। সুতরাং ইংলিশ চ্যানেলে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। অ্যাডভেঞ্চার সাঁতার বা খোলা পানির সাঁতার দেয়া প্রত্যেকটা দেশ বা উন্নত দেশগুলো এ চ্যানেলের সাঁতারকে অনেক মর্যাদা দেয়।’
‘সুতরাং এটা মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতা যা ব্যক্তি উদ্যোগে করে। আমার ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল এই চ্যানেল সাঁতরে যে কোনো মূল্যে শেষ করব। এর বিশেষত্ব যারা সাঁতারের সাথে যুক্ত তারা খুব ভালোভাবেই জানে।’
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সাবেক শিক্ষার্থী মাহফিজুর রহমান সাগর ও নাজমুল হক হিমেল গত সোমবার এ চ্যানেলে সাঁতার শুরু করে মঙ্গলবার শেষ করেন। এ চ্যানেল পাড়ি দিতে তাদের লেগেছে মোট ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে বিভক্ত করা আটলান্টিক মহাসাগরের এই চ্যানেলে সাঁতারের শুরুটা হয় যুক্তরাজ্যের ডোভারের শেক্সপিয়ার বিচ থেকে। সেখান থেকে সাঁতার শুরুর পর ফ্রান্সের কাপ গ্রিস বিচে গিয়ে শেষ হয় এ যাত্রা। ৬৭ বছর আগে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রজেন দাস। ছয়বার এ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান কিংবদন্তি সাঁতারু। তারপর আব্দুল মালেক ও মোশাররফ হোসেন পাড়ি দিয়েছিলেন এ চ্যানেল। এবার যুক্ত হল আরও দুই নাম- মাহফিজুর রহমান সাগর, নাজমুল হক হিমেল।








