সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে আগে তিনবার ফাইনাল খেললেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি বাংলাদেশের। চতুর্থবার শিরোপামঞ্চে এসে আর হতাশ হতে হয়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। স্বাগতিক নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার টুর্নামেন্টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। সাফের বয়স ভিত্তিক শিরোপাটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের উৎসর্গ করেছে কোচ মারুফুল হকের দল।
কাঠমান্ডুর আনফা কমপ্লেক্সে শিরোপা জয়ের পর কোচ মারুফুল হক ব্রডকাস্টারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কোচ মারুফুল হক উৎসর্গের কথা জানান, ‘আমরা এই চ্যাম্পিয়নশিপ জুলাই-আগস্টে মাসে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের উৎসর্গ করছি। দেশের জন্য তারা জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ।’
‘আমরা ম্যাচটি ধীরগতিতে শুরু করেছিলাম। ফাইনালের আগে ছেলেরা বিশ্রাম কম পেয়েছে। নেপাল দুইদিন বিশ্রাম পেয়েছে, আমরা একদিন। নেপাল খুবই ভালো দল। বেশ কয়েকজন কোয়ালিটি ফুটবলার আছে দলে। তারপর তারা এ মাঠে খেলেই বেড়ে উঠেছে। নিজেদের মাঠ, দর্শক ছিল তাদের। আমাদের ছেলেদের সবসময়ই বলেছি, তোমরা স্বাভাবিক খেলবা। আজও তারা আমারে উপদেশ মেনে খেলেছে।’
ভয়াবহ বন্যায় দেশের কয়েকটি অঞ্চল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘অনেক মানুষ কষ্ট করছেন। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে আছেন লাখো লাখো মানুষ। আমাদের নতুন বাংলাদেশ এসব মোকাবিলা করে দেশ সংস্কারের চেষ্টা করছে। আশা করি, এই চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের মানুষকে আরো ঐক্যবদ্ধ করবে, দেশ সংস্কারের উৎসাহ পাবে।’
ফাইনালে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক জোড়া গোলদাতা মিরাজুল ইসলাম। দুই গোলের পাশাপাশি গোল করিয়েছেন একটি। প্রতিক্রিয়া জানাতে এসে লাল-সবুজের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের জন্য খেলিনি। দেশের মানুষের জন্য খেলেছি। আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিছু দিন আগে দেশের মানুষ আন্দোলন করে, জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনেছে। এখন অনেক মানুষ বন্যায় কষ্ট করছে। আমরা এই মানুষদের ট্রফি উৎসর্গ করছি।’
মিরাজের জোড়া গোলের পাশাপাশি বাকী গোল দুটি করেছেন রাব্বি হোসেন রাহুল ও পিয়াস আহমেদ নোভা। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রাব্বি শিরোপাটি ট্রফি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের উৎসর্গ করার কথা জানিয়েছেন।








