একপেশে আক্রমণে গিয়ে মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম খেলায় নেপালকে হারিয়ে শুভসূচনা পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের সঙ্গে দুর্দান্ত জয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কাটে ফাইনালের টিকিট। নিয়মরক্ষার ম্যাচে ভুটানকে উড়িয়ে দিয়েছে সাইফুল বারী টিটুর দল।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিস্ময়কর এক তথ্যই দিলেন টিটু। লিগপর্বে টানা তিন ম্যাচে দাপুটে জয়েও পরও তার দলের মেয়েদের মাঝে নাকি রয়েছে ভয়। ফাইনালের আগে সেই ভয়কে জয় করার উপরই দিচ্ছেন সকল মনোযোগ।
বাঘিনীদের কোচের ভাষ্য, ‘ওদের যতো বয়স বাড়বে ততো আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ছোট ছোট পাস করে বল নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারগুলো ঠিক করা লাগবে। ওরা এখনো একটু ভয় পাচ্ছে বল পাস দিতে। যদি হারিয়ে ফেলি, সেই ভয়। এই ধরনের ব্যাপারগুলো তাদের কাজ করছে।’
গত মাসে ঢাকার মাটিতে হওয়া মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ লিগপর্বে পর্যায়ক্রমে নেপাল, ভারত ও ভুটানের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ। সেবারও এক ম্যাচ হাতে রেখে ফাইনালে যায় লাল-সবুজের দল। নিয়মরক্ষার খেলায় ভুটানের সঙ্গে বেঞ্চের প্রায় সব ফুটবলারকে শুরুর একাদশে রেখেছিলেন টিটু। তবে অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে শক্তিশালী দলকেই তিনি মাঠে নামান।
ফাইনালের আগে নিয়মিত ফুটবলারদের বিশ্রাম না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি ব্যাখ্যা দেন। বললেন, ‘আমরা টুর্নামেন্টে গোল মাত্র একটা হজম করেছি। ইতিমধ্যে ১২টা গোল করেছি। তবে একটা জিনিস হচ্ছে আজকের ম্যাচটা খুব কৌশলগত ছিল। এইজন্য যে একদিন পরেই ফাইনাল খেলব। কিছু খেলোয়াড়কে ওইভাবে বিশ্রাম দেয়া যাচ্ছে না। আমাদের সমস্যা যে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মতো সেকেন্ড ব্যাচটা তৈরি নাই। প্রীতির মতো গোল করা ফুটবলার নেই।’
শিরোপা নির্ধারণী খেলাতেই এখন সব মনোযোগ দিতে চান বাংলাদেশের কোচ। তার ভাষ্য, ‘টুর্নামেন্ট যা হওয়ার হয়েছে। এখন সবকিছু ফাইনাল ঘিরে। আমরা ফাইনালের দিকে তাকিয়ে আছি। ফাইনালে যেন সব খেলোয়াড় সুস্থ থাকে, এবং সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগটা করতে পারে, এই চেষ্টাটাই তৈরি করা লাগবে।’
‘ভারত ও ভুটানের সাথে যে ছাড় দিয়েছি, ফাইনালে ভারত তো আমাদের সেটা দেবে না। ওইখানে আরও দ্রুত পাসিং ফুটবল খেলতে হবে। প্রয়োজনে কিছু লং পাস খেলতে হবে। ভারতের সাথে আমরা বিল্ড আপ করতে পারব কিনা, জানি না। কারণ তারা ভালো প্রেস করে। তবে আমাদের খেলার ধারাটা ধরে রাখতে হবে। আমরা পাস করে যদি মাঠটা বড় করতে পারি বল পাওয়ার সাথে সাথে, তাহলে আমাদের পক্ষে এটা করা সহজ।’
মাঠের ফুটবলে মেয়েদের নিয়ে আর কাজ করানোর এখন আর কোনো উপায় নেই বলেও সাফ জানান টিটু। দলকে অনুপ্রাণিত করার কাজটাই তাই ঠিকঠাক করতে তিনি মরিয়া। এটিকেই তিনি সাফল্য অর্জনের পন্থা হিসেবে মানছেন।
‘সবকিছুই আত্মবিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। আমার মনে হয় মেয়েরা একটু দ্বিধায় ছিল। তবে এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। ফাইনাল মানে আসলে একটাই তো ম্যাচ বাকি। জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। ছোটদের সামনে এটা দাঁড় করানো যে এই সেই ম্যাচ। জিতলে চ্যাম্পিয়ন, কাপ নিয়ে যাব। এসব নিয়ে এখন যতটা কাজ করা যায়। মাঠের কাজ এখন আর করানোর কোনো উপায় নেই। এখন সবকিছু অনুপ্রেরণার উপর নির্ভর করবে। ওদের অনুপ্রাণিত করা লাগবে।’








