কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন- ছাত্র জনতার সমর্থনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। এবার তিনি সরব হলেন অন্য একটি বিষয়ে।
ছাত্র-জনতার পক্ষে অভিনয়শিল্পী বা কলাকুশলীদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তারা সরব ছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের নানা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে। আবার একদল শিল্পী নীরব ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন দানা বাঁধে, তখন তারা দলীয় (আওয়ামী লীগ) ট্যাগে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে কথা বলেছেন। অবস্থান নিয়েছিলেন সরকারের পক্ষে। খুলেছিলেন ‘আলো আসবেই’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও।
সম্প্রতি সেই গ্রুপটির কার্যক্রম কেমন ছিলো, সেসবের স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে। সেই সাথে জানা গেছে, কারা কারা ছিলেন ‘আলো আসবেই’ গ্রুপটিতে। ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ছাত্র-জনতার পক্ষে যেসব শিল্পী ফেসবুকে কথা বলেছেন, সেসবের স্ক্রিনশট গ্রুপটিতে শেয়ার করেছেন সদস্য। যাদের তালিকা করে পরে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও গ্রুপটিতে আলোচনা হয়।
পরিচিত এই শিল্পীদের ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে অন্য শিল্পীদের নিয়ে এমন আলোচনা সমাজের সব মহলে উদ্বেগের পাশাপাশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তেমনি একটি স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে সাদিয়া আয়মানকে নিয়ে।
বিটিভিতে আগুন লাগার পর সরকার পক্ষের যেসব শিল্পীরা সেখানে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন। ‘বিটিভি প্রাঙ্গণে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি’-শিরোনামের একটি সংবাদের নিজের ওয়ালে শেয়ার করে সাদিয়া লিখেছিলেন, ‘শেম অন ইউ গাইজ’! সাদিয়ার দেয়া এই স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশটটি ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে শেয়ার করেন মিলন ভট্টাচার্য নামের এক অভিনেতা।
সাদিয়াকে নিয়ে গ্রুপের সেই কনভার্সনে দেখা যায়, মিলনের কাছে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস জানতে চান, ‘সাদিয়া কে সে?’ মিলন জবাব দেন, ‘এই সময়ের তথাকথিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী’। অরুণা বিশ্বাস আবার বলেন, ‘একটা ছবি দেন তো’। পরে সেই গ্রুপে সাদিয়ার একটি ছবি শেয়ার করেন মিলন।
মঙ্গলবার এই গ্রুপের স্ক্রিনশট ফাঁস হলে তা নিজের ওয়ালে পোস্ট করেন সাদিয়া। সেখানে মিলন ভট্টাচার্যকে মেনশন করে লিখেন, “আপনাকে ধন্যবাদ মিলন ভট্টাচার্য দাদা, মানুষের মতো দেখতে, শিল্পী নামে শয়তান বেশধারীদের কাছে আমার মতো “এই সময়ের তথাকথিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী”কে চিনিয়েছেন, যে ভুলকে ভুল বলতে জানে, সত্যকে সত্য বলতে জানে।”
এসময় সাদিয়া আরো বলেন,“গ্রুপের নাম দিয়েছেন ‘আলো আসবেই’ তা বেশ ভালো, তবে আপনারা জানেন আপনাদের নিজেদের জীবনে, মস্তিষ্কে সত্যিকারের আলোর যে ভীষণ প্রয়োজন?”








