‘একের কোচের দর্শন একেক রকম। কোনো কোচ আক্রমণাত্মক কেউ আবার রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। আমার কাছে মনে হয়েছে উনি একটু হাই প্রেসিং খেলা পছন্দ করেন। ডিফেন্ডিং লাইনেও হাই। শেষ আমাদের যে কয়টা খেলা দেখে বলেছেন, ওরা বেশ রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। এটা সে চায় না। ডিফেন্স লাইনটা যেন হাই থাকে, সেটা চায়। কৌশলগত দিক থেকে পরিষ্কার বার্তা দেয়।’
বাফুফের এলিট একাডেমি থেকে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের কোচের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিটার জেমস জেমস বাটলারকে নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় কথাগুলো বলেন সাবিনা খাতুন। চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ দিয়ে এই ব্রিটিশ নাগরিক বাঘিনীদের ডাগ আউট সামলানোর কাজ শুরু করবেন।
বাটলারের প্রোফাইল বেশ সমৃদ্ধ। লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা জাতীয় দলে কাজ করার পর তিনি বাফুফের এলিট একাডেমিতে যুক্ত হন। ক্লাব ফুটবলে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সুপার লিগেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার কৌশলে ফুটবলাররা কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, তা নিয়ে অধিনায়ক সাবিনা বলেন, ‘আমার কাছে এগুলো ব্যাপার না। আমার অভিজ্ঞতা বেশ দীর্ঘ। নতুনরা কীভাবে মানিয়ে নেয়, সেটা দেখার বিষয়।’
মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১০০ ধাপ এগিয়ে চাইনিজ তাইপে। ঢাকায় পৌঁছানো সফরকারী দলের বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ের ৪০তম স্থানে আছে। ১৪০তম অবস্থানে রয়েছে লাল-সবুজের দল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিয়ে অবশ্য ইতিবাচক মনোভাবই দেখালেন টাইগ্রেস অধিনায়ক।
‘পেশাগত দিক থেকে যদি বলি, খেলতেই হবে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা ভালো খেলতে হবে। সত্যি কথা বলতে খেলোয়াড়রা যখন মাঠে নামে, তখন শতকরা ১২০ ভাগ দেয়ার চেষ্টা করে। সবার ভালো করার চেষ্টা থাকবে। ভালো ভালো দলের সাথে খেলাটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু মিলিয়ে প্রস্তুতি বেশ ভালোই আছে।’
‘শেষ দুই বছরে আমরা সাফ ধরে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ এশিয়ান গেমসে বেশকিছু ম্যাচ খেলেছি। শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। চাইনিজ তাইপের সঙ্গে অনেক শক্ত দুটি ম্যাচ হবে। সময় এখন শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলার। ফলাফল যেটাই হোক, সেটা পরের বিষয়। তাদের র্যাঙ্কিং অনেক উপরে। শক্তিশালী দলের সাথে খেললে নিজেদের পারফরম্যান্সের যে ব্যাপারটা, নিজেদেরকে আরও ভালো কীভাবে করা যায় সেটাও উপলব্ধি করতে পারবে।’
শক্তি ও সামর্থ্যের বিচারে অতিথি দল অনেক এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের লক্ষ্য নিয়ে কথা বোলার সময় সাবিনা ছিলেন বেশ সতর্ক। সুযোগ পেয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কিঞ্চিত রসিকতাও করলেন।
‘বলছি না যে জিতব। যেহেতু অনেক বড় দল। জিতব অবশ্যই বলার পর যদি ফল খারাপ হয়, তখন আপনারাই দেবেন (দেখে নেবেন) যে, ক্যাপ্টেন বলেছিল। তবে ভালো খেলার প্রত্যাশা থাকবে। আর যাই হোক জাপানের সাথে তো খেলবো না।’
চাইনিজ তাইপে কেমন দল, সেই ব্যাপারে কোনো ধারণা নেই বলে সাফ জানান সাবিনা। এটুকুই বললেন, ‘তাদের ২-৩টা ম্যাচের ভিডিও দেখেছি। এটার সাথে সামনা সামনি দেখার পার্থক্য আছে। দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে ভালোই, বেশ ভালো দল।’
ঘরের মাঠে কমলাপুরের টার্ফে খেলেই অভ্যস্ত মেয়েরা। তবে টার্ফ খেলার অনুপযুক্ত হওয়ায় ফিফা এই ভেন্যুতে আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দেবে না। যার ফলে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় এবার হবে দুটি প্রীতি ম্যাচ। এ মাঠে খেলাটা ফুটবলারদের জন্য সুবিধার হবে বলেই সাবিনা মনে করেন। তবে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় কর্দমাক্ত ও ভারি মাঠে খেলাটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এটিও জানিয়ে রাখলেন।
‘আমি যতটুকু জানি বসুন্ধরার মাঠ অনেক সুন্দর। মাঠ ভালো থাকলে খেলোয়াড়দের মধ্যেও ভালো লাগা কাজ করে। টার্ফ থেকে যখন আপনি ঘাসের মাঠে খেলবেন, তখন সেটা আরও সুবিধা হয়। তবে কাঁদা হওয়ায় মাঠ ভারি থাকবে। সেটাও একটা বিষয়।’
চোটের কারণে তারকা ফুটবলার মারিয়া মান্দা স্কোয়াডে নেই। এশিয়ান গেমসে ইনজুরিতে পড়ার পর মেয়েদের ফুটবল লিগে ফিরলেও সেরা ছন্দে না থাকায় কৃষ্ণা রানি সরকারকেও দলে ফেরানো হয়নি। এই দুই ফুটবলারের অনুপস্থিতিটা সাবিনাকেও বেশ ভাবাচ্ছে।
‘ওদেরকে তো মিস করবোই। মারিয়া তো মারিয়াই। যে জায়গাটাতে (মিডফিল্ড) সে খেলে,ওইখানে তাকে মধ্যমণি বলা যায়। আরেকটা ব্যাপার, দীর্ঘদিন মারিয়ার সাথে ওই জায়গায় খেলে আসছে মনিকা। দুইজনের যেমন বন্ধন, তাতে যে খেলোয়াড়টা তার জায়গায় থাকবে, সে ঐভাবে
বল পাস দিতে পারবে কি না, এটা একটা ব্যাপার। আমার থেকে মনে হয় মনিকা বেশি মিস করবে।’








