গত বছরের অন্যতম আলোচিত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার পর নতুন ছবিতে অভিনয় করলেন সাবিলা নূর। তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার শুটিং ইতিমধ্যে শেষ করেছেন। নন্দিত কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হওয়া এই সিনেমাটি আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে সাবিলা কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদক নাহিয়ান ইমনের সঙ্গে-
‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর আপডেট কী?
সাবিলা নূর: শুটিং পুরোপুরি শেষ। প্রায় ২০দিনের মতো শুটিং করেছি। এখন ডাবিং বাকি। এই টিমের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করলাম। তারা সবকিছু গুছিয়ে কাজ করেছেন। প্রতিদিন যেভাবে প্ল্যান ছিল, সেভাবে গুছিয়ে কাজ হয়েছে। খুবই ভালো অভিজ্ঞতা।
‘উৎসব’ সুপারহিট হয়েছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা বেশী। শুটিংয়ের সময় আপনার মাথায় কী চলছিল?
হুমায়ূন স্যারের উপন্যাস এবং তানিম নূরের পরিচালনার পাশাপাশি যখন উপন্যাসের ‘চিত্রা’ চরিত্রের প্রস্তাব পাই খুবই ভালো লেগেছিল। গত জুলাইয়ের দিকে আমার সঙ্গে যখন তানিম ভাইয়ার প্রথম আলাপ হয়েছিল তখনই মনে হয়েছিল এই প্রজেক্টে থাকাটা আমার জন্য রাইট চয়েজ হবে। শুটিং করে মনে হয়েছে, আমি সিদ্ধান্তটা ঠিক নিয়েছিলাম।
মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজের মতো তারকা অভিনেতা আছেন আপনার সহশিল্পী হিসেবে। তাদের সঙ্গে কাজ করে কেমন লেগেছে?
শুরু থেকে অলমোস্ট আমার প্রতিদিনই শুটিং ছিল। ওখানে বেশীরভাগ আর্টিস্টদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে নিজেকে লাকি মনে হয়েছে। মোশাররফ ভাইয়ার সাথে বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং দৃশ্য রয়েছে। আর যদি আমার বিপরীতে বলি, তাহলে রাজ (শরিফুল রাজ) ভাইয়া আছেন। সুন্দর ক্যামেস্ট্রি রয়েছে। মম আপু, শ্যামল ভাইয়া সবার সঙ্গে কিছু না দৃশ্য রয়েছে, সঙ্গে একদল নতুন আর্টিস্ট রয়েছে। আমি যেখানে কাজ করি, সেখান থেকে নতুন নতুন বিষয় শেখার চেষ্টা করি। এখান থেকেও নতুন কিছু শিখেছি। মেকাপ, কস্টিউম, রাইটারসহ সকল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে দারুণ বন্ডিং তৈরি হয়ে ওঠে। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র পুরো জার্নিটা আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে। এজন্য শুটিংয়ের শেষদিন ইমোশনাল হয়ে কান্না করেছি। এটা আমার কাছে মেমোরেবল এক্সপেরিয়েন্স হয়ে থাকবে।
সিনেমার শুটিং তো শেষ হলো। এই সময়টা কীভাবে কাটাচ্ছেন?
এই সিনেমার শুটিংয়ের কারণে অনেকদিন জিম করা হয়নি। আবার জিম রুটিনে ব্যাক করছি। সামনে ‘গোলাম মামুন’ ওটিটির কাজ রয়েছে। গল্পটা হাতে পেয়েছি। আমার চরিত্রে আরও বেশী টুইস্ট ও লেয়ার রয়েছে। এজন্য আমাকে কিছুটা ওজন বাড়াতে হবে। এই কাজের প্রস্তুতিতে যাচ্ছি। চিত্রাকে দর্শক একভাবে দেখবে, আবার ‘গোলাম মামুন’-এ রাহীকে যেন দর্শক নতুনভাবে দেখতে পারে, সেই চেষ্টা করছি।
প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ইচ্ছে থাকে। আপনার কোন ধরনের সিনেমা করতে ব্যক্তিগতভাবে ইচ্ছে জাগে বা আপনাকে বেশী টানে?
সবসময়ই ব্যবসায়িকভাবে সফল হয় এমন সিনেমা করতে চাই। সেই সঙ্গে যেখানে আমার চরিত্রে সুন্দর সিগনিফিকেন্স থাকবে মানুষ যেন এনজয় করে, তেমন কাজ আমাকে টানে। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র পরে আগামীতে নতুন কোনো সিনেমায় রোম্যান্স, ড্যান্স, অ্যাকশন করতে পারলে দর্শক ভেরিয়েশন পাবে বলে মনে করি, আমারও বেশী ভালো লাগবে।
কী মনে হয়, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে?
শুরুতে তানিম নূর ভাইয়া বলেছিলেন কমার্শিয়াল সিনেমা বানাতে চান। এটা কিন্তু আর্ট ফিল্ম না। এখানে রোম্যান্স, কমেডি, ট্রাজেডি সব রয়েছে। যেগুলো দর্শকরা আকৃষ্ট হয়ে সিনেমা হলে আসে। কিন্তু প্রথাগতভাবে নাচ-গানের ব্যাপার নেই। তবে যে গল্প রয়েছে সেটা এখানে অন্যতম বড় শক্তি। হুমায়ূন আহমেদের স্যারের ফ্যানদের পাশাপাশি যারা ‘উৎসব’ দেখেছেন তারাও নিশ্চয়ই এই সিনেমা দেখবেন। সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি এই সিনেমার পটেনশিয়াল আছে।
অনেকদিন হলো নাটকে কাজ করছেন না। নাটক সেক্টরটা এখন আপনার দৃষ্টিতে কেমন আছে বলে মনে করেন?
নাটকে ইয়াশ রোহান, তটিনী, নীহা, সুনেরাহসহ অনেকে ভালো করছে। রাজ ভাইয়ার (মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ) ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ খুব ভালো হচ্ছে। টিভির এক ঘণ্টার নাটকের এই কালচারটা পৃথিবীর কোথাও নেই। এটা আমাদের নিজেদের কালচার। প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জ হলেও ভালোর সঙ্গে কিছু মন্দ কাজ হবে, এটা সবসময়ই ছিল। ভালো কাজগুলো দর্শক সবসময় মনে রাখছে। আমার কাছে কিছু গল্প রয়েছে, যদি কখনও ফিল করি দু-একটি কাজ করা উচিৎ, তখন আবার নাটক করবো। কারণ, দর্শক আমাকে নাটক থেকেই চিনেছেন।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-কে মিস করেন?
ভীষণ মিস করি। অমি ভাইয়া যখন ‘সিজন ৫’ শুরু করেন, তখনই ‘তাণ্ডব’ শুরু হয়। যেহেতু প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে এত বড় প্রজেক্টে সুযোগ আসে তাই মনোযোগটা আর ডাইভার্ট করতে চাইনি। অনেকের হয়তো কমপ্লেইন থাকতে পারে, স্ক্রিনটাইম কম! কিন্তু আমার দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা করেছি। তাণ্ডবে আমাদের মেগাস্টার শাকিব খান ভাইয়া ছিলেন। এ কারণে আমার পূর্ণ মনোযোগ ‘তাণ্ডব’ ঘিরে ছিল। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ এই সিজন খুব ভালো হচ্ছে। ওটাও আমার আরেক ফ্যামিলি। এই ফ্যামিলি জন্য আমার বেস্ট উইশেস সবসময় থাকবে।








