ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলের বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় সেখানে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মস্কো।
ইসরায়েলি পত্রিকা ‘মারিভ’-এর বরাত দিয়ে রাজনৈতিক সূত্র জানায়, রাশিয়া ইসরায়েলে তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
হামলাটি এমন একটি এলাকায় হয়েছে, যা বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র পরিচালনায় নিয়োজিত রুশ বিশেষজ্ঞদের আবাসনের খুব কাছাকাছি।
রাশিয়া বলেছে, তাদের কর্মীদের অবস্থান আগেই জানানো ছিল তবুও আবাসিক এলাকার কাছে হামলা চালানো হয়েছে, যা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে আবাসনগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই লক্ষ্যবস্তুটি ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। ২০১১ সালে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটি রুশ জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচালিত হয় এবং এর উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াট।
দীর্ঘদিন ধরে রুশ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা এই কেন্দ্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে এই স্থাপনাটি মস্কোর জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
রাশিয়ার মতে, বুশেহরের আশেপাশে যেকোনো সামরিক তৎপরতা শুধু ইরানের অবকাঠামোর জন্যই নয়, বরং সেখানে থাকা শতাধিক রুশ বিশেষজ্ঞের কারণে রাশিয়ার স্বার্থের জন্যও হুমকি।
ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মস্কো ইতোমধ্যে কিছু কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে। তবে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সেখানে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু কার্যক্রম ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রুশ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক কেন্দ্রটিতে সরাসরি হামলা হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
মস্কো আরও জানায়, এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে তারা আগে থেকেই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলকে তাদের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির তথ্য জানিয়েছিল।








