রাশিয়ার সংসদ একটি নতুন আইন পাস করেছে যা নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার অনুমতি দেবে। এই পদক্ষেপ তালেবান এবং সিরিয়ার হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১৭ ডিসেম্বর স্টেট ডুমায় অনুমোদিত এই আইন রাশিয়ার আদালতগুলোকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা গোষ্ঠীগুলোকে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা দেবে। তালেবান ২০০৩ সালে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছিল এবং ২০২০ সালে যুক্ত হওয়া এইচটিএস ও এই তালিকার অংশ। এইচটিএস সম্প্রতি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের নেতৃত্ব দিয়েছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে যে সব গোষ্ঠীকে রাশিয়ার সরকার ‘সন্ত্রাসী’ বলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা তুলে নেওয়া হবে। নতুন আইন বলে আদালতের হাতে থাকবে সেই ক্ষমতা।
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে এখনও কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে রাশিয়া ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জুলাইয়ে তালেবানকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। রাশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চেচনিয়া অঞ্চলের নেতা রমজান কাদিরভও সম্প্রতি সিরিয়ার এইচটিএসকে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর রাশিয়া সেখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ভূমধ্যসাগরে তার কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে। ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে তারা সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
নতুন আইনটি রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু সন্ত্রাস দমন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মস্কোর কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার প্রয়াস বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।








