বাংলাদেশের ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা হয় কিংবদন্তি সংগীত তারকা রুনা লায়লাকে। উপহাদেশের জীবন্ত এই কিংবদন্তির ৭২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৭ নভেম্বর)। দেশ-বিদেশের অনুরাগী-শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে দিনটি পালন করছেন এই মহাতারকা।
দুপুরে জন্মদিন পালন করতে চ্যানেল আইয়ের ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন রুনা লায়লা। অনুষ্ঠান শেষে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপ করেন…
চ্যানেল আই অনলাইন: এবার জন্মদিন কীভাবে সেলিব্রেট করছেন? আলমগীর সাহেবের সারপ্রাইজ পেয়েছেন?
রুনা লায়লা: পরিবার স্বজনদের নিয়ে গতকালই সেলিব্রেট করেছি। আজ সকাল থেকে উনি (আলমগীর) কিছুই করেননি। কারণ দুজনেই সকালে বের হয়েছি। কিন্তু উনি জন্মদিন ছাড়া বছরজুড়েই একাধিকবার সারপ্রাইজ দেয়ার চেষ্টা করেন।
চ্যানেল আই অনলাইন: আলমগীর সাহেব আপনাকে কতটা কীভাবে অনুপ্রাণিত করেন?
রুনা লায়লা: শিল্পী ছবির শুটিংয়ে মেকাপরুপ ফ্রি টাইমে দুজনেই গাইতাম। গান নিয়ে আমাদের আলোচনা বেশি হতো। উনি গায়ক হতে চেয়েছিলেন। তাই তার গানে আগ্রহ বেশি। আমরা কেউ কারো কাজে হস্তক্ষেপ করি না। বরং দুজনে যেকোনো ভালো কাজ আলোচনার মাধ্যমে করে থাকি। সবসময় পরস্পরকে কাজের ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করি।
চ্যানেল আই অনলাইন: এতযুগ পরেও গানে আপনি এভারগ্রিন। নতুনদের উদ্দেশ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী বার্তা দেবেন?
রুনা লায়লা: সংগীত সাধনার বিষয়। প্যাশন ও রেওয়াজ সবকিছু থাকতে হবে। এখনও যখন সময় পাই রেওয়াজ করি। নতুনরা এখন অনেক ব্যস্ত। তাদের বলবো সাধনা করো, রেওয়াজ করো। যেকোনো গান সময় পেলেই রেওয়াজ করতে হবে। অর্জিনাল গানকে নিজের মতো করে গাইতে হবে, গবেষণা মনে করতে হবে। তাহলে ইমপ্রুভমেন্ট বোঝা যাবে। মানে গলাকে বসিয়ে রাখা যাবে না। নতুন অনেকের মধ্যে আমি শেখার ইচ্ছেটা দেখি। অনেকের গান শুনে আমি সরাসরি ফোন করি, টেক্সট পাঠাই। তারা সেই মতামতগুলো গ্রহণ করে। আমি সবসময় বলি, নতুনরা অলওয়েজ ওয়েলকাম।
চ্যানেল আই অনলাইন: সবাই বলছে আগের মতো আর গান হচ্ছে কই?
রুনা লায়লা: আগে তো সোশ্যাল মেজাজের ছবি বেশি হতো। সেভাবে গান তৈরি হতো। এখন ছবি গল্প বদলে গেছে। পাবলিকের টেস্টও বলতে গেছে। তাদেরও এই শুনলাম ভুলে গেলাম অবস্থা। তবে এখন কিছু গান হচ্ছে, যেগুলো আমরা চলে যাওয়ার পরেও থাকবে। তাছাড়া সেইভাবে গানের প্রচারও হচ্ছে না। আগে চ্যানেলে নিয়মিত গানের অনুষ্ঠান হতো। এখন কি সেভাবে হচ্ছে? গানের প্ল্যাটফর্ম না পেলে ভালো গান হবে কীভাবে?
চ্যানেল আই অনলাইন: এখন সবাই আপনার সান্নিধ্য চায়। আপনার সময়ে কারা আছেন যাদের কাছে যেতে চাইতেন?
রুনা লায়লা: দেশের মধ্যে ফেরদৌসী আপা তখন ছিলেন তুঙ্গে। তার সামনে যেতে ভয় লাগতো। দেশের বাইরে লতা জী (লতা মঙ্গেশকর) , আশা জী (আশা ভোসলে)-এর কথাও বারবার মনে হতো। তাদের সঙ্গে মেশার পর একদম ক্লোজ হয়ে গেলাম। কয়েক বছর আগেও লতা জীর সঙ্গে নিয়মিত ঘণ্টা পর ঘণ্টা ফোনে কথা হতো, গান নিয়ে আলাপ হতো। আমি খুব লাকি যে সবার কাছে যেতে পেরেছি, তাদের স্নেহ ভালোবাসা পেয়েছি।
চ্যানেল আই অনলাইন:অটো টিউনে এখন অনেকে গাইছেন। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?
রুনা লায়লা: অটো-টিউন দিয়ে এখন যে কেউ গান গাইতে পারে, সেটা পছন্দ হোক বা না হোক। এই কথাটার মধ্যেই মনে হয় বোঝা যাচ্ছে কী বলতে চাই। নিজের সুর ঠিক রাখতে না পারলে তো শিল্পী হওয়াই উচিত না। অটো-টিউন যদি সব ঠিক করে দেয় তাহলে সে কিসের শিল্পী? অটো-টিউন কি কণ্ঠের ইমোশন আনতে পারবে? আগে সম্পূর্ণ মিউজিশিয়ানদের নিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বসে গান শেষ হতে হতে সকাল হয়ে যেত। এমনও হয়েছে একজনের ভুলে ১০০ বারও টেক দিয়েছি। এই শ্রমটা এখন কতজন করছে? হ্যাঁ, সময় অবশ্য পরিবর্তন হয়েছে। আমি নিজে এখন মিউজিক ডিরেক্টরদের বলি আগে গানের কথা ও সুর পাঠাও। এতে করে দুদিন ধরে নিজে প্র্যাকটিস করি। গানের আগে এই প্র্যাকটিসটাও খুব দরকার।
চ্যানেল আই অনলাইন: এখনকার অনেক শিল্পী ‘বেটার লাইফ লিড’ করার জন্য বিদেশে চলে যাচ্ছেন। তৎকালীন আপনার তো বেশি সুযোগ ছিল।
রুনা লায়লা: ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিতে টপে থাকার সময়ই বাংলাদেশে চলে আসি। তখন সেখানে ছ’টা গান কোনো মহিলা শিল্পী গাইলে, পাঁচটিই আমি গাইতাম। এমনও হয়েছে পাকিস্তানে আমি একদিনে সাতটি গানের রেকর্ডিংও করেছি। ওইসময় আমি সেখানে অসাধারণ কিছু গান করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তখন আমি বাংলাদেশে চলে আসি, নিজের দেশে থাকবো বলে। কারণ, এটাই আমার দেশ। তাহলে কেন আমি অন্যদেশে চলে যাবো? শিল্পী হিসেবে আমার দায় রয়েছে। এখনও আমি বিদেশে কাজ করলে আগেই বলে দেই, আমার নামের আগে যেন অবশ্যই মেনশন করে দেয়া হয় ‘রুনা লায়লা ফ্রম বাংলাদেশ’। কারণ, বাংলাদেশি হিসেবে আমি গর্ববোধ করি।







