টানা ৯ টেস্ট জয়হীন, যার ৬টিতে হারের তিক্ত স্বাদ। সবশেষ ১৭ টেস্টে জয় সবে একটি। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ ভরাডুবি। সাদা পোশাকে করুণই চলছিল ইংল্যান্ডের। এরপর রুটকে বদলে স্টোকসের কাঁধে গেল নেতৃত্ব, কোচ বদলে এলেন ম্যাককালাম। সবশেষে জয়েই এই জুটি যুগের সূচনা হল।
লর্ডসে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে নেমেও বিপর্যয়েই পড়েছিল ইংলিশ দল। প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে যায় দেড়শর আগেই। এরপর নিউজিল্যান্ডকে দেয় গুঁড়িয়ে। শেষে জো রুটের মহাকাব্যিক এক শতক। যাতে ভর করে ক্রিকেটের তীর্থভূমিতে হারের বৃত্ত ভাঙার উল্লাসে মাতে স্টোকসের দল।
রোববার চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৬১ রান, হাতে ৫ উইকেট। রুট ও বেন ফোকসের সাবধানী ব্যাটিংয়ে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে ম্যাককালাম-স্টোকস জুটিকে স্বাগত জানায় স্বাগতিক দল।
আগেরদিনের ২১৬ রান নিয়ে ব্যাটে নেমে কিউইদের কোনো সুযোগ দেননি রুট-ফোকস। দিনের ১৩তম ওভারে সাউদির ইয়র্কার বল মিড উইকেটের দিকে ঠেলে ক্যারিয়ারের ২৬তম সেঞ্চুরি তুলে নেন রুট। দ্বিতীয় ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ১০ হাজার রানও পূর্ণ করেন।
সেঞ্চুরির পর রানের গতি বাড়ান রুট। দিনের খেলার ১৫তম ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে নেন দলকে। স্বস্তির জয় তুলে ১১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন রুট, ফোকস অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে।
শনিবার তৃতীয় দিনের খেলায় প্রথম সেশনে ৬ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়েছিল কিউইরা। ১২ চারে ড্যারেল মিচেল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন, ৯৬ রানে কাটা পড়েন টম ব্লান্ডেল। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ড থামে ২৮৫ রানে।
তাতে ইংলিশদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭৭ রানের। জবাবে ৬৯ রানে ৪ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। পঞ্চম উইকেটে ক্রিজে আসেন স্টোকস। সাবেক অধিনায়ক রুটের সাথে ৯২ রানের জুটি গড়ে জয়ের ভিত এনে দেন নতুন অধিনায়ক।
ক্যারিয়ারের ২৬তম অর্ধশতক তুলে স্টোকস আউট হন জেমিসনের বলে। ইলিশদের জিততে তখনও দরকার ছিল ১০৮ রান। ফোকস ও রুটের ব্যাটিংয়ে দিনের শেষটায় কোনো বিপদ আসেনি, দুজনে ৫৭ রান যোগ করে অবিচ্ছিন্ন থাকেন।
টেস্টের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে চলেছে পেসারদের তাণ্ডব। ম্যাথু পটস ও জেমস অ্যান্ডারসনের আগুনঝরা বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। জবাবে খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি স্বাগতিকরাও, স্টোকসদের প্রথম ইনিংস থামে ১৪১ রানে।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচের সর্বোচ্চ ৭ উইকেট নিয়েছেন স্বাগতিকদের অভিষিক্ত পেসার ম্যাথু পটস। ৬ উইকেট নিয়ে তার পরে কিউইদের কাইল জেমিসন ও ইংলিশদের জেমস অ্যান্ডারসন। দুদলের দুই অভিজ্ঞ ট্রেন্ট বোল্ট ও স্টুয়ার্ট ব্রড নিয়েছেন ৪টি করে উইকেট।








