ঈদে ১০৫ সিনেমা মুক্তি পাওয়া রকস্টার সিনেমা দেখে ফেসবুক পোস্টে রিভিউ দিয়েছেন গীতিকার ও সাংবাদিক জাহিদ আকবর। তিনি বলেন, ‘রকস্টার’ বারবার দেখার মতো একটি সিনেমা। আগামীদিনে আইকনিক প্রেমের ছবি হিসেবে বিবেচিত হবে এই ‘রকস্টার।
ঈদের দ্বিতীয় দুপুরে দেয়া এক পোস্টে প্রিয়তমা, সুরমা সুরমা, মন পাজড়ে, অচিন মাঝি গানগুলো দিয়ে পরিচিতি পাওয়া গীতিকার জাহিদ আকবর লেখেন, আমার কথা লিখে রাখেন, স্ক্রিনশট দিয়েও রাখতে পারেন। আগামী কয়েকমাস এই সিনেমা মাল্টিপ্লেক্স থেকে নামবে না।
কিছু শ্রেণীর দর্শক রকস্টার দেখে অপ্রচারও চালাচ্ছেন উল্লেখ করে জাহিদ আকবর বলেন, যারা অপপ্রচার করছেন সেটা তাদের ব্যক্তিগত কোনো রাগ ক্ষোভ থেকে করছেন। সিনেমা না দেখে অনেকে খারাপ মন্তব্য করছেন। রকস্টার দেখতে বসলে বুঁদ হয়ে যাবেন এটা আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস। মুখে মুখে ছড়িয়ে যাবে সিনেমার সাফল্য, তখন এই অপপ্রচার এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে কয়েকদিনে।
সিনেমায় শাকিব খানের প্রশংসা করে এই গীতিকার লেখেন, শাকিব খান তার অভিনীত আগুন চরিত্রটি এতো অল্প সময়ে আত্মস্থ করেছেন যা অবাক করেছে। একজন আসল রকস্টারই মনে হয়েছে তাকে। গীটার ধরা থেকে গান গাইবার স্টাইল অসাধারণ। গলার ভোকাল কর্ড নষ্ট হওয়ার পর যে হাহাকার, কষ্ট করে কথা বলা মনখারাপ করে দেবে শাকিব খানের এই অভিনয়। না পাওয়া প্রেম, হতাশা দেখানোর জন্য নেশা দেখানো হয়েছে। এখানেই একজন অভিনেতার কারিশমা। সিনেমায় নায়ক আর অভিনেতার দারুণ সমন্বয়।
অন্যান্যদের প্রশংসা করে জাহিদ আকবর বলেন, সাবিলা নূর অভিনীত মীরা চরিত্রটি এখন পর্যন্ত তারজন্যে সেরা। একদম ঠিকঠাকভাবে তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। পর্দায় প্রেমিকা হিসেবে ভালোবাসাময় দৃশ্য, প্রেমিকা হিসেবে হতাশা সুন্দরভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তাকে প্রেমের সিনেমায় অন্যরা ভাবতে পারেন। এইসময়ের এক নম্বর নায়িকা হিসেবে বলা যায়। গানের দৃশ্যেও দারুন মানিয়েছে শাকিব খানের সঙ্গে। ছোট চরিত্র কিন্তু সুপারডেল চরিত্রের মিথিলা মাত্র ২ দৃশ্যে একদম পারফেক্ট পছন্দ। পর্দায় যা মানিয়ে গেছেন।
রকস্টার সিনেমার গানগুলো নিয়ে জাহিদ আকবর বলেন, আরেকজন এই সিনেমায় নিজেকে একদম ঢেলে দিয়েছেন গানের কথা, সুর আর গায়কীতে। এই সিনেমায় ব্যবহার করা ছোট- ছোট বিভিন্ন গানের কথা, সুরে অনন্য অসাধারণ। তার নাম আহমেদ হাসান সানি। তার গানের কথা, সুরে রকস্টার শাকিব খানের অভিনয় আরো বেগবান করেছেন অনেকখানে, মিলেমিশে নিবিড় বন্ধন। কথা, সুর আর অভিনয়ের বুনন। আগামীদিন বাংলা সিনেমার অন্যতম সুরকার,গীতিকার,শিল্পী হিসেবে পথ হাঁটবেন। যদিও সিনেমা মুক্তির আগে প্রকাশিত একটা গানে খুববেশি ভালো লাগেনি। কিন্তু সিনেমাহলে গল্পের সঙ্গে মাত করে দিয়েছেন সানি। শুভকামনা তার জন্য।
‘রকস্টার’ সিনেমায় কী দারুণ -দারুণ সংলাপ রয়েছে যা আলোচনায় আসছেনা। ক্যামেরার ব্যবহার, লোকেশন নির্বাচন অনবদ্য। এই সময়ের স্মার্ট সিনেমা। মেশিনগান বাদ দিয়ে গীটারেও বাজিমাত করছে এই সিনেমা।’ ‘রকস্টার’ পরিচালক আজমান রুশো একটা ধন্যবাদ পেতে পারেন। তার সঙ্গে আমার আজকের দিন পর্যন্ত পরিচয় নেই।








