উদ্বোধনের ৮ মাসেও জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা রেলগেট হতে আটাপুরের দিবাকরপুর রাস্তার পাকাকরণের কাজ শুরু না হওয়ায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট্ট ছোট্ট গর্ত।
সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা আর হাটু পানি বেধে সৃষ্টি হয় জলাশয়। ফলে আশপাশের ৬ গ্রামের স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী, কৃষকসহ সাধারণ পথচারীদের রাস্তায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
জানা যায়, ১ কোটি ১২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৬৪০ মিটার বাগজানা রেলগেট হতে আটাপুরের দিবাকরপুর রাস্তাটি নির্মাণের কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাঈদ ট্রেডাস।
উদ্বোধনের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি নির্মাণের জন্য মাটি খুড়ে বক্স করে রাখলেও দীর্ঘ ৮ মাসে আর কোন কাজ না করায় রাস্তায় তৈই হয়েছে অসংখ্য ছোট্ট ছোট্ট গর্ত। যে কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাজলে একাকার হয়ে যায় রাস্তাটি।
ফলে এ রাস্তায় চলাচলকারী আশপাশের ৬ গ্রামের স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেই সাথে ওই এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল নিকটস্থ বাজারে নিতে পারছেন না। বিকল্প অন্য কোন বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে একদিকে দূরত্ব বাড়ছে অন্যদিকে দ্বিগুণ সময় ও পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পাঁচবিবি উপজেলার কটুহারা গ্রামের কৃষক নজরুল ও আকবর অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ৮ মাস ধরে রাস্তাটি খুড়ে রাখার কারণে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে রাস্তাটি চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে আমরা আমাদের ধানসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে নিকটস্থ বাজারে যেতে পারি না। বিকল্প রাস্তা না থাকার কারণে উল্টো দিকের বরণ ছেলোবেলো হয়ে ভালুকগাড়ি হয়ে দিবাকরপুর গিয়ে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে পরিবহনের খরচ বেশী গুণতে হচ্ছে। অপচয় হচ্ছে সময়ও।
ঘোড়াপা গ্রামের ভ্যান চালক মতিয়ার রহমান বলেন, আগে এই রাস্তা দিয়ে ভ্যান চালানো যেতো। দু’পয়সা আয় রোজগার হতো। এখন ভ্যান নিয়ে তো দুরের কথা পায়ে হেঁটেই আর সেভাবে এই রাস্তায় চলাচল করা যায় না। ফলে আগের মতো আয় রোজগারও হচ্ছে না। এই রাস্তাটা পাকা না হওয়াই ভাল ছিলো।
দ্রুত রাস্তাটির কাজ শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন, ঠিকাদার রাস্তাটি খননের পর দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখার কারণে এলাকার লোকজন দূর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। রাস্তার কাজটি দ্রুত শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।
এবিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাঈদ ট্রেডাসের কর্ণধার সাঈদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অচিরেই কাজ শুরু করা হবে।
পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলী ওয়ালীউল্লাহ শেখ বলেন, জনদূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হবে।








