শক্তিশালী পাকিস্তানকে টানা দুই টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে দেশটির মাটিতে ২-০তে সিরিজ জয়ের পর এবার ঘরের মাটিতে আবারও ২-০তে জিতেছে টিম টাইগার্স। দুই ম্যাচের টানা দুই সিরিজে প্রথমবার কোন দেশকে হোয়াইটওয়াশের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। আগে পরপর দুই সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতলেও সেটি ছিল এক ম্যাচের সিরিজ। দুই ইনিংসের একটিতে সেঞ্চুরি ও একটিতে ফিফটি করে ম্যাচসেরা লিটন দাস। সিরিজসেরার পুরস্কার উঠেছে মুশফিকুর রহিমের হাতে।
মিরপুরে প্রথম টেস্টে ব্যাটে-বলে সমানতালে লড়ে সম্মিলিত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের বড় জয় ১০৪ রানে তুলেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিলেটে সিরিজ জয়ের ম্যাচে শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে মনে হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে ৩৩৭ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান তোলে ৩৫৮ রান, ৭৮ রানের জয় তুলে শান মাসুদের দলকে ২-০তে ধরাশয়ী করেছে টিম টাইগার্স।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দুম্যাচেই বড় জয় তুলেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটে, দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটের বড় জয় তুলেছিলেন লিটন-মুশফিকরা। যার মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরে রেকর্ড আরও পাকাপোক্ত করল লাল-সবুজের দল। ওই সিরিজে দুই ম্যাচের একটিতে মুশফিক ও অন্যটিতে লিটন ম্যাচসেরা হয়েছিলেন, সিরিজসেরা হয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় টেস্টে সাকিব-মুশফিক অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেছিলেন।
এবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে সম্মিলিত পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি ও ৮৭ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরা হয়েছেন। মুমিনুল হকের ৯১ ও ৫৬ রান, মুশফিকুর রহিমের ৭১ ও ২২ রান ছিল কার্যকরী। বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানার ৬টি করে উইকেট, তাসকিন ও তাইজুলের ৪টি করে উইকেট ছিল উল্লেখযোগ্য।
দ্বিতীয় টেস্টে লিটন দাস ১২৬ রানের পর ৬৯ করে ম্যাচসেরা হয়েছেন। মুশফিকের ২৩ ও ১৩৭ রান সিরিজসেরা হতে সাহায্য করেছে, সঙ্গে যোগ হয়েছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানের তকমা। বল হাতে সবাই ছিলেন উজ্জ্বল, তাইজুল ইসলাম একটু বেশিই ভূমিকা রেখেছেন, দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে, সিরিজে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেটও তার। পেসারদের মধ্যে নাহিদ রানাকে পাকিস্তানের ব্যাটাররা বুঝতেই পারেননি। সাবেকরাও তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। তিনি মোট ১১ উইকেট নিয়েছেন।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে টানা দুই জয়ে ভারতের উপরে উঠে গেছে টিম টাইগার্স। দুটি জয়, একটি ড্র ও একটি হারে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এখন টেবিলের পাঁচে, জয়ের শতাংশ ৫৮.৩৩। টেবিলে পরের দল অর্থাৎ ছয়ে ভারতের অবস্থান। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের তিন চক্রের তৃতীয়টিতে সর্বোচ্চ চার জয় তুলেছিল বাংলাদেশ। এবার প্রথম চারেই দুটি জয়, সাফল্যের পাল্লা আরও ভারি করেছে।







