এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিগ ব্যাশে খেলেছেন রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হ্যারিকেনসের হয়ে স্বপ্নের মতো আসর কাটিয়েছেন টাইগার তারকা লেগ স্পিনার। ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। দলের বোলারদের মধ্যে শীর্ষ উইকেট শিকারী হয়েছেন। জানালেন বিগ ব্যাশের সেইসব অভিজ্ঞতা।
দেশে ফিরে অদম্য বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন রিশাদ। ২১ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। আকবর আলীর দুরন্ত একাদশকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা ধূমকেতু একাদশের স্পিনার ম্যাচ শেষে আসেন সংবাদ সম্মেলনে। জানতে চাওয়া হয় বিগ ব্যাশে প্রথমবার খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে।
রিশাদ বলেন, ‘বিগ ব্যাশ আর বাংলাদেশের কন্ডিশন আলাদা, খেলার পরিবেশ একেবারেই আলাদা। ওগুলো চিন্তা করলে আমাদের তো এতকিছু হবে না। তবে যদি চিন্তা করি যে খেলার পরিবেশটা, আমার মনে হয় এটা আমাদের আরেকটু উন্নত করা সম্ভব। আর যদি বলেন হোটেল থেকে শুরু করে সবকিছু, সেটা একেক দলের একেক রকম পরিবেশ। আমার মনে হয় বাংলাদেশেও খারাপ না।’
স্মিথ-ওয়ার্নারের মতো ক্রিকেটারদের প্রশংসা করেছেন রিশাদ। বলেছেন, ‘ওরা অনেক বিনয়ী। যত বড় ক্রিকেটার হোক না কেন, ওরা অনেক সহজ-সরল। যে কাউকেই সহজে মানিয়ে নিতে পারে। বড়-ছোট কোনকিছু দেখে না। এটা আমার ভালো লেগেছে এবং চেষ্টা করব ওরকম হয়ে যাওয়ার। দক্ষতার দিক থেকে বলতে গেলে এটা তো সবার উনিশ-বিশ, মানসিকতা এবং ভালো পরিবেশ সবচেয়ে জরুরি।’
অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি সাবেক পেসার ব্রেট লি’র সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন রিশাদ। সেই ছবির পেছনের গল্পও বলেছেন। তার ভাষ্যে, ‘ছবি আমি তুলতে চাইনি, বোলিং করছিলাম। ওনারা ডাকছিলেন- এদিকে আসো। এমনি কথা বলছিলাম.. ওনারা অনেক ফ্রেন্ডলি এবং ওনাদের থেকে অনেককিছু শেখার আছে, চেষ্টা করছি যতটুকু সম্ভব কথা বলার এবং শেখার।’
রিশাদকে দলে নেয়ার পেছনে বড় অবদান ছিল রিকি পন্টিংয়ের। যার সঙ্গেও নিয়মিত কথা হতো রিশাদের। বলেছেন, ‘প্রতিদিনই তো দেখা হতো, এক দলেই যেহেতু। টুকটাক কথা হয়েছে অনেক কথাই শেয়ার হয়েছে।’
রিশাদের উত্থানে বড় অবদান ছিল বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের, যিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচিং করান। হাথুরুর সাথেও দেখা হয়েছিল রিশাদের। বলেছেন, ‘দেখা হয়েছে অবশ্যই, আপনারা হয়ত জানেন। দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। বলছিলাম সামনে আরও কী করা যায়, যেহেতু উনি অস্ট্রেলিয়া থাকেন। চেষ্টা করছিলাম ওনার কাছ থেকে আরও দু-একটা পরামর্শ নেয়ার জন্য। এরবেশি কথা হয়নি।’
বিগ ব্যাশে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। হোবার্টের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। দলটিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তোলার অন্যতম অবদান তার। নিজের পারফরম্যান্সে যদিও সন্তুষ্ট নন রিশাদ। বললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হলে সন্তুষ্ট হতাম।’
বছর দুয়েক আগেও জাতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন না, এখন অন্যতম তারকা ক্রিকেটার। সেসময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রিশাদ বললেন, ‘যখন খেলতে পারতাম না, তখনো ওটা আমার জন্য একটা লার্নিং ছিল। ওই সময়টা অনেককিছু এক্সপেরিয়েন্স করতে পেরেছি এবং নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছি।’








