একসময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোটাই ছিল তার স্বাভাবিক জীবন। লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশন এই তিনের ভেতরেই গড়ে উঠছিল তার স্বপ্ন। বলিউডের সিনেমায় সোনালি ক্যাবল, চেহরে, জালেবি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। কিন্তু ২০২০ সাল এসে সেই চলমান গল্পে হঠাৎ করেই এক ভয়াবহ ছেদ টেনে দেয়।
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আকস্মিক মৃত্যুর পর রিয়ার নাম জড়িয়ে পড়ে বিতর্কে। যা শুধু রিয়ার অভিনয় জীবন নয়, পুরো ব্যক্তি জীবনকেই এলোমেলো করে দেয়। দীর্ঘ সময় মূলধারার অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। কারণ কেউ তাকে কাজে নিতে চাইতেন না। তীব্র সমালোচনার প্রায় ৬ বছর পর, হংসল মেহতার একটি সিরিজ দিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। এসব তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন রিয়া।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিয়া চক্রবর্তী বলেন, “অভিনয়ের জন্য এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিশ্রম করেছি, এর জন্য আমাকে বহু থেরাপি সেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু সেই অভিনয়ের স্বপ্নটা ছেড়ে দিতে হয়। এটা নিয়ে চিন্তা করাও বন্ধ করতে হয়েছিল। কারণ এটা তখন আমার নাগালের বাইরে ছিল। আমি অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছিলাম না, কেউ আমার সঙ্গে কাজ করতে চায়নি।”
তবে নতুন প্রজেক্টে কাজ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না রিয়া। এ ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “হংসল স্যার আর লেখক আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমাকে কে আটকে রেখেছে?’ জবাবে আমি বলেছিলাম, ‘আমি অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি।’ তখন উনারা বলেছিলেন, ‘এটা তো আরো বড় কারণ।’ এই কাজটি করার কারণ হলো এখানে ভালো করলাম কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি এখন খুব খুশি যে, ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম। সেটে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা ছিল।”
পেশাগত সমস্যার বাইরেও ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে যারা তার পাশে ছিলেন, সেই নারীদের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রিয়া। তিনি বলেন, “আমার বান্ধবীরা আমাকে দেখিয়েছে সত্যিকারের বন্ধুত্ব কাকে বলে! কোনো কারণ ছাড়াই ভালোবাসা পাওয়া, এমনকি তাদের নিজের জীবন আর জীবিকা ঝুঁকিতে পড়লেও এটা ছিল অসাধারণ।”- টাইমস অব ইন্ডিয়া







