চলচ্চিত্র আন্দোলন কর্মী, শিক্ষক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা জাহিদুর রহিম অঞ্জন-এর ৬১তম জন্মবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর)। এ উপলক্ষে ঢাকার লালমাটিয়ার কলাকেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছে স্মরণ অনুষ্ঠান ‘শব্দে-নৈঃশব্দে’।
২৭ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সেখানে চলবে চলচ্চিত্রকার অঞ্জনের নির্মিত ও অনুপ্রাণিত কাজের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং ভিডিও ইন্সটলেশন।
খবরটি জানিয়ে নিজের ফেসবুকে নির্মাতার দাম্পত্যসঙ্গী ও খ্যাতিমান সাহিত্যিক শাহীন আখতার লিখেন, “বছর গড়াতে লাগল। মৃত্যুর ৯ মাস ৩ দিন পর, অঞ্জনের জন্মদিন ২৭ নভেম্বর। জন্মদিন তো উৎসব ও তা উদযাপনের। এই উদযাপন খুব পছন্দ করতো অঞ্জন। সাড়ম্বরে দিনটি পালন করে আনন্দ পেতো। গত বছর ভারতীয় শহর বেঙ্গালোরে ওর জন্মদিন হাজির হয়, যখন লিভার ট্রান্সপ্লান্টের অনিশ্চয়তায় আমরা জেরবার হচ্ছি। অঞ্জনের ভীষণ মন খারাপ – এমন বাজে জন্মদিন ওর কখনো হয়নি। ‘পরের বার হবে,’ আমি জোর দিয়ে বলেছিলাম। ‘পরের বার দারুণ একটা জন্মদিন হবে, নতুন জীবন ফিরে পাওয়া একজন রোগমুক্ত সুস্থ মানুষের জন্মদিন।’ অঞ্জন নতুন জীবন ফিরে পায়নি। আমার প্রতিশ্রুতি মিথ্যা প্রমাণ করতেই যেন ও চলে গেল। এবার আমি, আমার ও অঞ্জনের বন্ধুদের হাত ধরে জন্মদিনটা ঘরের বাইরে নিয়ে এসেছি। অঞ্জন মুখর ও মৌন এখানে। যেমন করে ঘুমে ও নির্ঘুমে শব্দে-নৈঃশব্দে, আলো-আঁধারে ও আসে, তেমনি তার সৃষ্টিশীলতা, উচ্ছলতা, ভালোবাসা, বিমর্ষতা, রোগযন্ত্রণা ও শেষযাত্রা নিয়ে হাজির হয়েছে এখানে। একটি শোকাকুল পরিবেশেও জন্মদিন উদযাপন হয়তো অর্থবহ হতে পারে।”
১৯৬৪ সালের ২৭ নভেম্বর খুলনায় জন্মগ্রহণ করা চলচ্চিত্রকার অঞ্জন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বাবা মিজানুর রহিম ছিলেন ভাষাসৈনিক, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী; মা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।
গ্র্যাজুয়েশনের পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতের পুনা ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। সেখানে ১৯৯০ সালে আন্তন চেখভের গল্প অবলম্বনে নির্মাণ করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মর্নিং’—যা বহু বছর ধরে পরবর্তী ব্যাচগুলোর ডিপ্লোমা চলচ্চিত্রের আদর্শ হিসেবে পড়ানো হয়েছে।
২০১৪ সালে অঞ্জন নির্মাণ করেন প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মেঘমল্লার’, যা প্রদর্শিত হয় টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ডিসকভারি বিভাগে। কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের একাধিক শাখায় সম্মাননা অর্জন করেন।
সর্বশেষ তিনি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চাঁদের আমাবস্যা’, যা মুক্তির অপেক্ষায় আছে।








