পবিত্র হজের প্রথম দিনে মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। বিভিন্ন তাঁবুতে গিয়ে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের খোঁজখবর নিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ‘তাঁবুর শহর’ হিসেবে পরিচিত মিনা এখন হাজীদের লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত। বিভিন্ন তাঁবুতে চলছে হজের মাসআলা-মাসায়েল ও ধর্মীয় আলোচনা।
সোমবার (২৫ মে) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক স্বাক্ষরিত এক তথ্যবিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, রোববার রাত ১০টার পর থেকেই হাজিরা মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, হজযাত্রীরা সোমবার মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে মঙ্গলবার তারা আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে খুতবার পর যোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন হাজিরা।
এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন হাজিরা। ইসলামী শরিয়তে আরাফাতে অবস্থানকেই হজের মূল অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন তারা। পরদিন বুধবার সূর্যোদয়ের আগে মিনায় ফিরে বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোট করার আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন হাজিরা। জিলহজ মাসের ১১ ও ১২ তারিখে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা মিনা ত্যাগ করবেন।
তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিনায় অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজীদের জন্য হাদিয়াস্বরূপ পাঁচ হাজার প্যাকেট উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ যাতে হজ পালন করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সৌদি সরকার। মিনায় যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ‘নুসুক’ কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তীব্র গরমের কারণে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাঁবুর ভেতরে অবস্থান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, ছাতা ব্যবহার এবং বেশি পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সৌদি প্রশাসন।








