ভোরবেলা। পাখিরা মিষ্টি সুরে গান গাইছে। বাগানের ফুলে শিশিরের ফোঁটা ঝলমল করছে।
মায়রা আর মায়রন দৌড়ে বেরিয়ে এলো। চলো, আজ বাগানে নতুন কিছু খুঁজে দেখি! বলল মায়রা।
আমি তো রেডি! হেসে বললো মায়রন।
বাগানের এক কোণে তারা দেখল একটি ছোট্ট লাল পিঁপড়ে। পিঁপড়েটি একটি চালের দানা টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
মায়রন অবাক হয়ে বললো, আরে! এত ছোট্ট পিঁপড়ে এত বড় দানা কীভাবে নেবে?
পিঁপড়েটি চেষ্টা করলো। আবার চেষ্টা করলো। কিন্তু দানাটি বারবার পিছলে গেল। ঠিক তখনই আরও কয়েকটি লাল পিঁপড়ে এলো। একটি বললো, চলো, সবাই মিলে ধরি!
সবাই একসঙ্গে দানাটি তুলে নিল। মুহূর্তেই তারা সেটি বাসার দিকে নিয়ে গেলো।
মায়রা হাততালি দিয়ে বললো, বাহ! একসঙ্গে কাজ করলে কত সহজ হয়!
এমন সময় নানাভাই এসে দাঁড়ালেন।
তিনি মুচকি হেসে বললেন, এই পিঁপড়েগুলো কিন্তু বড় শিক্ষক। ওরা শেখায় কীভাবে পরিশ্রম করতে হয়, আর একসঙ্গে থাকলে কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।
বুবাইও এসে দুই ভাইবোনকে জড়িয়ে ধরলেন। আমার সোনামণিরাও সবসময় একে অপরকে সাহায্য করবে, তাই না?
অবশ্যই! একসঙ্গে বলল মায়রা আর মায়রন।
তারপর চারজন মিলে বাগানের গাছে পানি দিল। শুকনো পাতা কুড়িয়ে পরিষ্কার করলো। বুবাই ঝুড়ি ভরে পাকা আম এনে সবাইকে খেতে দিলেন।
মায়রন বলল, আজ থেকে লাল পিঁপড়ে আমার নতুন বন্ধু!
মায়রা হেসে বলল, আমারও! ওদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখলাম।
সন্ধ্যায় আকাশে একে একে তারা জ্বলে উঠলো।
নানাভাই গল্প বলতে শুরু করলেন। বুবাই গরম গরম পায়েস এনে দিলেন।
মায়রা আর মায়রন মনে মনে ভাবলো, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গা হলো সেই ঘর, যেখানে ভালোবাসা থাকে, সবাই একে অপরকে সাহায্য করে, আর ছোট্ট একটি লাল পিঁপড়েও বড় শিক্ষা দিয়ে যায়।







