সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের হত্যা ও নির্যাতন করা হচ্ছে দাবি জানিয়ে একক বা ঐক্যবদ্ধভাবে লাল কাপড় মুখে ও চোখে বেঁধে ছবি তোলা এবং অনলাইনে প্রচার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। এরই অংশ হিসেবে ফেসবুকে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে অনেকেই তাদের ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিতে ব্যবহার করছেন লাল রং।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) ফেসবুকে ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং গ্রুপগুলো ঘুরে দেখা যায় লাল আর লাল। আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে অনেকেই তাদের প্রোফাইল পিকচারে লাল রংয়ের ছবি ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি অনেককে চোখে ও মুখে লাল কাপড় বেঁধে একক ও দলীয় ছবিও দিতে দেখা যায়। একই সাথে ক্যাপশনে ব্যবহার করা হচ্ছে বেশ কিছু হ্যাশট্যাগও।
বর্তমানে দেশে বন্ধ রয়েছে ফেসবুকসহ মেটার বেশ কিছু পরিষেবা। তারপরও ভিপিএন ব্যবহার করে অনেকেই চালাচ্ছেন ফেসবুক।
আমাদের দেশে ভিপিএন নিষিদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক এবং অধ্যাপক ড. কাজী মুহাইমিন-আস-সাকিব। তিনি বলেন, সরকার যদি দেশে ফেসবুক নিষিদ্ধ করত, তাহলে তাহলে ভিপিএন ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রবেশ করা হত অপরাধ। তবে যেহেতু ফেসবুক নিষিদ্ধ না তাই ভিপিএন এবং ভিপিএন ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রবেশ অপরাধ নয়।
ফেসবুকে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে প্রোফাইলে পিকচারে লাল রং ব্যবহার করেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাজিবুর রহমান নাঈম। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবি যৌক্তিক। তাই তাদের সমর্থনে এই রং ব্যবহার করেছি।
আন্দোলন সমর্থন জানাতেই নিজের ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারে লাল রংয়ের ছবি ব্যবহার করেছেন জুবায়ের মাহমুদ নামের এক শিক্ষার্থী।
তিনি বললেন, আন্দোলনে অনেক রক্ত ঝড়েছে। তাই রক্তের রং আর সমর্থনে ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারে লাল রং ব্যবহার করেছি।
এদিকে, আজ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যান্য নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশের মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনার পাশাপাশি ধারণ করা হবে কালো ব্যাজ। এর অংশ হিসেবে অনেকেই তাদের প্রোফাইল পিকচারে ব্যবহার করছেন কালো রংয়ের ছবি।
এর আগে গত রোববার (২৮ জুলাই) রাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে আলোচনা শেষে এক ভিডিও বার্তায় সব আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবু বাকের মজুমদার, আসিফ মাহমুদ ও নুসরাত তাবাসসুম উপস্থিত ছিলেন। তবে অনেকেই এই বার্তা জোরপূর্বক করানো বলে দাবি ওঠায়। তবে ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার দাবি মেনে নেয়াতেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। জোরপূর্বক কিছু করানো হয়নি।







