প্রতিদিনই বাড়ছে মুরগি এবং ডিমের দাম। গত এক সপ্তাহে দেশী জাত, ব্রয়লার ও লেয়ার সব ধরণের মুরগি কেজিতে কমপক্ষে ৫০ টাকা বেড়েছে। আর ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২০ টাকা।
গরু ও খাসীর মাংস কেনার সামর্থ্য হারানো কম আয়ের মানুষেরা পড়েছে বিপাকে। খানিকটা কম দামে আমিষের উৎস হয়ে ওঠা ডিম ও ফার্মের মুরগীর দাম বাড়তে থাকায় কাটছাট করতে হচ্ছে বাজারের বাজেটে।
শুক্রবার ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর করওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও আশপাশের বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় প্রতিটি পণ্যের।
বিশেষ করে দেশের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। দামে রেকর্ড ভেঙে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। গত সপ্তাহেও ব্রয়লারের কেজি ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। এ নিয়ে এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকার মতো।
বাজারভেদে ডিমের ডজনে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়, যা এক সপ্তাহে আগে আর ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। আর সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা ডজন। কোনো কোনো বাজারে দুই ধরনের ডিমই একই দামে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। এই যে ১০০ ডিম কিনলাম ১ হাজার ৭০ টাকায়। ভাড়া ১০ টাকা লাগল। বিক্রি করব ১ হাজার ৯০ টাকায়৷ মাত্র ১০ টাকা লাভ। আমরা কী করব? বেশি দামে কিনে কাস্টমারও খুশি নন। আমরা বিক্রি করে বেশি যে লাভ করতে পারি, তা নয়।’

বাজারে সবজির দাম পরিবর্তনশীল। আগে থেকে দাম বৃদ্ধি পাওয়া চালের বাজার স্থির রয়েছে। চিনি নিয়ে সংকট এখনো কাটে নাই, দায় চাপানোর প্যাঁচে পড়ে বাড়তি দাম দিচ্ছেন ভোক্তারা। প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়।
এছাড়াও বাজার ঘুরে অন্যন্য নিত্য পণ্যের দাম যেমন দেখা গিয়েছে
আকারভেদে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৫০ টাকায়। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০-৫০ টাকা, চালকুমড়া ৫০-৬০ টাকা। লম্বা ও গোল বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫৫ টাকায়। শিম ৪৫-৬০ টাকা, ঢ্যাড়স ৬০-৭৫ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা ও প্রতি কেজি আলু ২৭-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া প্রায় অপরিবর্তিত আছে অন্যসব সবজির দাম। যদিও সবজির দাম ওঠা-নামার মধ্যেই থাকে।

এদিকে, নতুন পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, রসুন ১২০-১৫০ টাকা, আদা (দেশি) ১০০-১৫০ টাকা ও খোলা চিনি ১১৫-১২০ টাকা। খোলা আটা ৬০ টাকা ও প্যাকেট আটা ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়।
বাজারে সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৮৭ টাকা ও লবণ ৩৮-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারে দাম অনেকটা গত সপ্তাহের বাজারের মতোই।
স্থানভেদে বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭২০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০০-৭২০ টাকা। এছাড়া স্থানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ২৯০-৩০০ টাকায়।
এছাড়া স্থানভেদে রুই, কাতলা, মৃগেল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৬০ টাকায়। পাঙাশের কেজি ১৫০-১৬০, তেলাপিয়া ২০০-২২০, গুড়া চিংড়ি ৪০০-৬০০ ও বড় চিংড়ি ৬০০-১০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।







