সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে ৮২ হাজার ইসরায়েলি দেশত্যাগ করেছেন এবং এই বছরও একই রকম পরিসংখ্যান আশা করা হচ্ছে, যা ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ।
জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, এই দেশত্যাগীদের মধ্যে হাজার হাজার উচ্চ-দক্ষ পেশাজীবী অন্তর্ভুক্ত। শুধু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই আট হাজারেরও বেশি হাই-টেক কর্মী ইসরায়েল ছেড়েছেন।
হিব্রু ইউনিভার্সিটির জনতাত্ত্বিক ডালিয়া অ্যাডলার স্পষ্ট করে বলেছেন, অভিবাসনের এই তরঙ্গ নজিরবিহীন। তরুণ, শিক্ষিত ইসরায়েলিরা চলে যাচ্ছেন, এবং আমরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এটি ইসরায়েলের উদ্ভাবন এবং বৃদ্ধিতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
তবে এই গল্পটি এত সরল নয়। বিশ্বজুড়ে ইহুদি-বিদ্বেষ বাড়তে থাকায়, বিশ্বব্যাপী ইহুদিদের জন্য ইসরায়েলের আশ্রয়স্থল হিসেবে ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। তবুও, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ইসরায়েলি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তার পরিবার নিয়ে ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরে ফিরে এসেছেন। তার অভিজ্ঞতা ছিল, বিদেশে ইসরায়েলি হওয়ার ভয় দেশের ভেতরের নিরাপত্তা হুমকির ভয়ের মতোই তীব্র।
কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ধাক্কা সামলে প্রাথমিক প্রস্থান স্থিতিশীল হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার, জীবনযাত্রার ব্যয়, জীবনধারা পছন্দ এবং বিদেশে কর্মজীবনের সুযোগ—এইসব কারণগুলিও এখানে ভূমিকা পালন করছে।
জন্ম এবং অভিবাসন বহির্গমনকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইসরায়েলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর নিরাপত্তা যদি খারাপ হয়, তবে তা আরও বেশি মানুষকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে বা, উল্টোভাবে, আরও বেশি মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে।








