সুপার লিগের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এ২২ এবং রিয়াল মাদ্রিদ পৃথকভাবে উয়েফার বিরুদ্ধে মামলায় এগোচ্ছে। মামলা পর উয়েফা ৪.৫ বিলিয়ন ইউরোর আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৩ হাজার কোটিরও বেশি। মামলার পাশাপাশি ফুটবল প্রকল্পটিকে পূর্ণ অনুমোদনের দাবিতে ইউরোপ ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিনের কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে এ২২ কর্তৃপক্ষ।
স্প্যানিশ গণমাধ্যমে খবর, এ২২ এবং রিয়াল উয়েফার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরে যুক্তি দিয়েছে যে, প্রকল্পটি বাধার কারণে যথেষ্ট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদালত (সিজেইউ) ২০২৩ সালে সিদ্ধান্ত দেন, উয়েফা এবং ফিফা সুপার লিগ তৈরিতে বাধা দিয়ে বেআইনিভাবে কাজ করেছে।
বার্ষিক সাধারণ সভায় রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নিশ্চিত করেছেন, ক্লাব তাদের নিজস্ব মামলা দায়ের করবে। যার ফলে উইয়েফার বিরুদ্ধে আর্থিক লড়াই ৪.৫ বিলিয়ন ইউরোয় দাঁড়াবে।
উয়েফাকে এক চিঠিতে এ২২ সুপার লিগ অনুমোদন করার আহ্বান জানিয়েছে। সতর্ক করেছে, যদি এই রায় মেনে চলতে এবং দুমাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায় সংস্থাটি, তাহলে আরও আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘আমাদের উল্লেখযোগ্য ছাড় সত্ত্বেও কোন চুক্তিতে পৌঁছানো হয়নি। ফলস্বরূপ, আমরা উয়েফাকে প্রস্তাবের উপর আলোচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’
যদিও এবছর অক্টোবরে মাদ্রিদের প্রাদেশিক আদালতে উয়েফা, লা লিগা এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের দায়ের করা আপিল খারিজ করে দেয়া হয়েছে। রায়টি বহাল রাখা হয়।
সুপার লিগ মূলত ১২ প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবকে নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা শুরু করতে চেয়েছিল। যা ইউরোপজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তীব্র সমালোচনা এবং উয়েফার সাথে আলোচনার পর আয়োজকরা প্রকল্পটিকে আরও উন্মুক্ত এবং প্রতিযোগিতামূলক মডেলে রূপান্তরিত করার জন্য বেশ কয়েকটি বড় সংস্কার সামনে আনে। সংশোধিত প্রতিযোগিতায় ৩৬ ক্লাবের প্রস্তাব করা হয়েছিল, ১৮ দলের দুটি গ্রুপে ভাগ করে একটি সুপার-চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার কথা বলা হয়েছিল। যেখানে শীর্ষ দলগুলো নকআউট পর্বে যাবে।
সংশোধনী প্রস্তাব সত্ত্বেও উয়েফা শেষপর্যন্ত আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে মাদ্রিদ এবং এ২২ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হল।
মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল এবং চেলসির মতো ক্লাবগুলো ২০২১ সালে সুপার লিগ প্রকল্প চালু করতে চেয়েছিল। পরে সমর্থকদের ব্যাপক প্রতিবাদ এবং ফুটবল কর্তৃপক্ষের তীব্র চাপের মুখে প্রকল্প বাধা পায়। ইংলিশ ক্লাবগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই নাম প্রত্যাহার করে নেয়। মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং জুভেন্টাস প্রকল্পের অবশিষ্ট দল হিসেবে থেকে যায়। সময়ের সাথে জুভেন্টাস এবং বার্সেলোনা অবস্থান পরিবর্তিত করে। ২০২৪ সালের জুনে ইতালিয়ান ক্লাবটি নাম প্রত্যাহার করে, এবছরের অক্টোবরে বার্সেলোনাও একই পথ অনুসরণ করে। কাতালানরা প্রত্যাহারের পরও রিয়াল এখনও প্রকাশ্যে সুপার লিগের পক্ষে কথা বলছে।








