রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) জেরার মুখে পশ্চিমবাংলার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বুধবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ইডির দপ্তরে এই নায়িকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সেখান থেকে বেরিয়েই হাসিমুখে হাতজোড় করলেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে। তাদের প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন না। তবে সব প্রশ্নের সোজাসুজি উত্তর দেননি। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাকে উনাদের তদন্তের জন্য কিছু ডকুমেন্টস দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল, আমি সেটা করে দিয়েছি। তারা আমার সহযোগিতায় খুশি। এই দুনীর্তির সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই।’
ঋতুপর্ণা বলেন, ‘তারা সহযোগিতা করেছেন, আমরাও করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারব না। এরপরে যখন কিছু হবে আমি বলব’। ঋতুপর্ণাকে ফের তলব করা হয়েছে কিনা, সেই সম্পর্কেও কিছু জানাননি তিনি। শুধু বলেন, ‘এটা ডিপার্টমেন্ট আর আমাদের ব্যাপার’।
এদিন ঋতুপর্ণার সঙ্গে ছিলেন তার ম্যানেজার শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্য়ায় ও আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের সঙ্গে ঋতুপর্ণার আর্থিক লেনদেনের তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের, এমনটাই জানিয়েছে ইডির সূত্র। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
জানা যাচ্ছে, অভিযুক্তের সঙ্গে প্রায় কোটির অঙ্কে আর্থিক লেনদেন হয়েছে একটি সংস্থার, সেই সংস্থার প্রোপ্রাইটর হিসাবে নাম রয়েছে অভিনেত্রীর। ঋতুপর্ণার আইনজীবী জানান, ‘ঋতুপর্ণা সিনেমা প্রডিউস করার জন্য টাকা নিয়েছিলেন সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়ে গেছে। তবে সেটা রেশন বণ্টন দুর্নীতির কিনা আমরা জানি না। মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের টাকা নাকি সেটাও জানি না। ইডিকে উনি পূর্ণ সহযোগিতা আজকে করেছেন। ফের তাকে আর তলব করা হয়নি। আর কোন ডকুমেন্টস চাওয়া হয়নি’।
অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির আর্থিক নয়ছয়ের মামলায় নাম জড়িয়ে পড়েছিল টলিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর। ২০১৯ সালে রোজভ্যালি মামলায় তাকে তলব করেছিল ইডি। তখন তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা।
এদিকে গত ৭ জুন মুক্তি পেয়েছে ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ জুটির ৫০তম সিনেমা ‘অযোগ্য’। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালনায় তৈরি এই ছবি ইতিমধ্যেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। ১০ দিনে ছবির আয়ের অঙ্ক ১ কোটি পার করেছে। দু-সপ্তাহে ১.৫ কোটির গণ্ডি পার করবে ‘অযোগ্য’- আশা বিশেষজ্ঞদের। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন শিলাজিৎ মজুমদার, লিলি চক্রবর্তীও।







