নেত্রকোনার সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রিপন মিয়া দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ অনুযায়ী, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, এর আগে অভিযুক্ত ওই কিশোরীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। ঘটনার সময় স্থানীয় দুজন বিষয়টি দেখতে পান। পরে তাদের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার পর রোববার (২ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিশের একটি ভিডিওতে অভিযুক্তকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আছে। আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’ভিডিওতে তাকে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়। তবে এই বক্তব্য আদালতে স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য নয়। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করা উচিত হয়নি। তাদের মতে, এমন অভিযোগের আইনগত তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ধর্ষণ বা এ ধরনের অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত। তাই এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক কার্যালয়ে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি না করে আইনগত প্রক্রিয়ায় পুলিশের কাছে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে সালিশে উপস্থিত স্থানীয় এক বিএনপি নেতা দাবি করেন, ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলে তারা জেনেছেন এবং ভুক্তভোগীর পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্ত রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানার পর পুলিশ এলাকায় গেছে এবং তথ্য সংগ্রহ করছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







