স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে পেসার নাহিদ রানার বোলিং তাণ্ডবের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে ঝলক দেখিয়েছে বাংলাদেশ। টপঅর্ডার ব্যাটারদের মন জুড়ানো ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটির কাছে আউট হয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার সাদমান ইসলাম। স্যাবিনা পার্কে বাংলাদেশকে অলআউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিততে হলে গড়তে হবে ইতিহাস।
দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪১.৪ ওভার খেলেছে বাংলাদেশ। সাদমান-মিরাজের ৭০, সাদমান-শাহাদাত দীপুর ৪৭ ও লিটন দাস-জাকের আলীর ৪১ রানের তিনটি জুটির কল্যাণে ১৯৩ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে ২১১ রানের লিডে এগিয়ে থেকে চতুর্থ দিন সকালে ব্যাটে নামবেন অপরাজিত জাকের (২৯) ও তাইজুল ইসলাম (৯)।
তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নেমে বোর্ডে রান যোগ করার আগেই শূন্যতে আউট হন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। তিনে নেমে শাহাদাত হোসেন দীপু মারকুটে ব্যাটিং শুরু করেন, আলঝারি জোসেফকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হওয়া দীপু ২৬ বল খেলে ২৮ রান করেন। সাদমানের সাথে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এসেছিল ৪৭ রান।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে টি-টুয়েন্টি মনোভাবে ৭৪ বলে ৭০ রানের দারুণ বন্ধন গড়েন সাদমান ও মিরাজ। ৪৬ রান করে শামার জোসেফের বলে উইকেটকিপার জসুয়া ডি সিলভার হাতে ধরা পড়ে ম্যাচে দ্বিতীয় ফিফটি থেকে বঞ্চিত হন সাদমান। এরপর ৪২ রান করে আউট হন অধিনায়ক মিরাজ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে লিটন-জাকেরের ৪১ রানের পর ২৫ করে আউট হন লিটন।
শামার জোসেফ নিয়েছেন ২টি উইকেট, জাডেন সিলস, জাস্টিন গ্রেভস ও আলঝারি জোসেফ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
ভালো অবস্থানে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করার পর তৃতীয় দিনে নাহিদ রানার কাছে মোমেন্টাম হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সকালে ব্যাটে নেমে স্বাগতিকরা ৬১ রানে শেষ ৯ উইকেট হারায়। রানা দ্বিতীয় দিনে এক উইকেটের পর এদিন সকালে নেন আরও ৪ উইকেট। দ্বিতীয় দিনে এক উইকেট হারিয়ে ৭০ রান করেছিলেন ব্র্যাথওয়েটরা।
আগেরদিন ৭০ রানে শেষ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় দিন সকালে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। রানার গতিতে পরাস্ত হয়, দ্রুত ২ উইকেট তুলে নেন টাইগার পেসার। সাথে তাসকিন, তাইজুল ও হাসানের তাণ্ডবে প্রথম সেশনেই ৭ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, প্রথম ইনিংসে ১৮ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
সর্বোচ্চ ৪০ রান এসেছে কেসি কার্টির থেকে, ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট। মিকাইলে লুইস ১২ রান করলেও অন্যকোনো ব্যাটার দুঅঙ্ক ছুঁতে পারেনি। রানার ৫ উইকেটের পথে হাসান নিয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন, মিরাজ ও তাইজুল।
সিরিজ রক্ষার ম্যাচে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সেই রানেই লিড পায় টিম টাইগার্স। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল, ২০০ রানের আগে অলআউট হয়েও লিড এলো। ২০০৮ সালে প্রথমবার সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৯২ রান করেও ২২ রানের লিড তুলেছিল বাংলাদেশ।
জ্যামাইকার স্যাবিনা পার্কে শনিবার প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বাঁহাতি ওপেনার সাদমান ইসলামের সর্বোচ্চ ৬৪ রানের পর ৩৬ রান আসে মিরাজের থেকে। ১৬৪ রানে বাংলাদেশকে থামাতে ৪৬ বছর পর নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন ডানহাতি ক্যারিবীয় পেসার জাডেন সিলস।








