এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পারিশ্রমিক ইস্যুতে এবারের বিপিএলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্বার রাজশাহী। একের পর এক চেক বাউন্সে পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় দলটির ক্রিকেটাররা। এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এগিয়ে এসেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে জানালেও পারিশ্রমিক পরিশোধে কিছুটা সময় দিয়েছে বিসিবি।
লিগ পর্বে নিজেদের সব ম্যাচ খেলা শেষ রাজশাহীর। এখন পর্যন্ত কেবল ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পেয়েছে দলটির ক্রিকেটাররা। অথচ টুর্নামেন্টের নীতিমালা অনুযায়ী, খেলা শেষ হওয়ার মধ্যে ৭৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বে রাজশাহীর পারিশ্রমিক জটিলতার বিষয়টি সামনে আসে। অনুশীলন বয়কট করেছিল ক্রিকেটাররা। পরে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের হস্তক্ষেপে ক্রিকেটারদের ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক দেয় রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি। তখন আরও ২৫ শতাংশ অর্থের চেক দেয়া হয় ক্রিকেটারদের। কিন্তু ওই চেক থেকে কোনো টাকা পাননি ক্রিকেটাররা। পরে ঢাকায় এসে গত রোববার আবার চেক হাতে পান তারা। সেদিন পারিশ্রমিক সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ম্যাচ বয়কট করেছিল দলটির বিদেশি ক্রিকেটাররা।
চেক হাতে পাওয়া দেশি ক্রিকেটাররা চেক ব্যাংকে জমা দিলে মঙ্গলবারেও কোনো টাকা আসেনি তাদের একাউন্টে। অর্থাৎ, আরও একবার চেক বাউন্স হয়েছে। এমন জটিলতায় দুপুরে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্ণধারদের নিয়ে বৈঠকে বসে বিসিবি। যেখানে ছিলেন রাজশাহীর মালিক শফিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পারিশ্রমিক পরিশোধের সম্ভাব্য একটি ছক দেখিয়েছেন তিনি বিসিবিকে। সেটায় আশ্বাস্ত হয়ে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে কিছুটা সময় দিয়েছে বিসিবি।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গর্ভনিং কমিটির সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন ফাহিম এমন জানান। বলেন, ‘এখন থেকে নিয়মিত নজরদারিতে থাকবে রাজশাহীর সব কার্যক্রম।’
পারিশ্রমিক পরিশোধে জটিলতায় নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘যারা একটু বা বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে, তাদের সঙ্গেই বেশি আলাপ হয়েছে। তারা কীভাবে এই অচলাবস্থা পার করবে, সেটা নিয়েই কথা হয়েছে। তারা কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা সেগুলো শুনেছি। তাদেরকে আমরা কিছুটা সময় দিয়েছি প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার জন্য। এখন থেকে প্রায় প্রতি মুহূর্তেই তাদের অনুসরণ করব প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা রাখছে। তাদেরকে যতটুকু সম্ভব চাপে রাখব। ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক নিয়ে যেন সন্তুষ্ট থাকে, এই বিষয়টা যেন তারা নিশ্চিত করে।’
‘এটা নিয়ে বারবারই আলোচনা হচ্ছে। এটা নিয়েই আমরা বেশি করে আলোচনা করেছি। রাজশাহীর কর্ণধারের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি এবং তাকে আমরা আমাদের মতো করে বলেছি যে, কী করা উচিত হবে, কী করা সম্ভব ও তার দিক থেকে আমরা কী প্রত্যাশা করছি। এটা আমরা এখন মনিটর করতে থাকব, টাইম টু টাইম মনিটর করতে থাকব। আশা করব যে, একটা পথ সে খুঁজে বের করবে যে, কীভাবে পেমেন্ট করবে। সে আমাদেরকে একটা ছবি দিয়েছে যে, কীভাবে সেটা করতে চায়। আমরা দেখতে চাই, সেভাবে সে করতে পারছে কি না।’
‘আস্থা কিছুটা কম বলেই, এখন প্রতি মুহূর্তে তাদের নজরদারিতে রাখছি। তারা যদি প্রতিশ্রুতি মোটামুটি রাখত, তাহলে এত বেশি উদ্বিগ্ন হতে হতো না। তবে এখন থেকে নিয়মিত নজরে রাখব আমরা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে কিনা, সেটি দেখব আমরা। (ফ্র্যাঞ্চাইজি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে) সেটা তো কাগজপত্র করাই আছে। সব লিগ্যাল পেপার করা আছে। সেখান থেকেই নির্দেশনা পাব আমাদের কী করতে হবে।’-যোগ করেন তিনি।
পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতা আছে চিটাগং কিংসেরও। দলটির স্বত্বাধিকারী এ নিয়ে পারভেজ হোসেন ইমনকে উদ্দেশ্য করে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে নাজুমল আবেদীন ক্রিকেটারের প্রতি সম্মানবোধের অভাব দেখছেন। কারো কাছ থেকেই এমন মন্তব্য আশা করে না বিসিবি। এমনকি তাদের সবাইকে পেশাদার আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন বিসিবির এই কর্মকর্তা।
বলেছেন, ‘না, এটা তো অবশ্যই, আমরা আশা করি না, এ রকম মন্তব্য কেউ করবেন। হয়তো একটা দল ভালো খেলতে পারে–খারাপ খেলতে পারে, একজন ক্রিকেটার ভালো খেলতে পারে–খারাপ খেলতে পারে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যাকে নিয়ে কথা হয়েছে, তার মতো একজন খেলোয়াড় তার মতো করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এই গ্রেট খেলাটির এটি একটি শিক্ষা যে, সবাই সবাইকে সম্মান দেবে। এটা থাকাটা জরুরি।’







