ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে পড়া ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর নিরাপত্তায় ‘সজাগ দৃষ্টি’ রাখার কথা বলেছেন র্যাবের মহাপরিচলক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান।
তিনি বলেন, ঈদের সময় ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলোতে মানুষজন কমে যায়। ফলে বাসা বাড়ি ফাঁকা থাকে। তাই ফাঁকা বাসাতে চুরি কিংবা দস্যুতা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।
রোববার জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের র্যাব ডিজি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে রমজান মাসের শুরু থেকেই আমরা নিরাপত্তক মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। রমজান মাসের শুরুতে মার্কেটগুলোতে বেচাকেনা বাড়ে এবং অনেক টাকার লেনদেন হয়। এর ফলে বেড়ে যায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজি মত অপরাধ।
তাই আমরা রমজান মাসের শুরু থেকে এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে আসছি। এখন ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মত অপরাধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এসেছে। ঈদের আগে, ঈদের দিন এবং ঈদের পরে, এই তিন ধাপে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। আমরা ঈদ আগের ধাপের প্রায় শেষ পর্যায়ে।
তিনি আরও বলেন, প্রথম থেকেই মার্কেট গুলোতে যেন চাঁদাবাজি না হয় এবং রাস্তায় যেন ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা কাজ করেছি। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয় সেজন্য আমরা অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।
হাইওয়েতে যেন ডাকাতি না হয় এবং দুর্ঘটনা যাতে কম হয় সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ঈদকে কেন্দ্র করে বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাট ও ট্রেন স্টেশনে প্রচুর লোকের সমাগম হয়।
সেসব স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাদা পোশাকে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।
ঈদের দিন সারাদেশে অনেক বড় বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লিদের সমাগম হবে জানিয়ে শহিদুর রহমান বলেন: এই কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ দেশের যে সকল স্থানে বড় বড় জামাত অনুষ্ঠান হবে সেটা বিভাগ পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যাতে মুসল্লিরা নিরাপত্তার সাথে ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন।
ঈদের দিন এবং ঈদের ছুটির দিন ঘুরতে পর্যটন কেন্দ্র এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে প্রচুর মানুষের সমাগম হবে। মানুষ যেন নিরাপদে বিনোদন করতে পারে সেজন্য আমরা সেসব স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি।
ঈদের সময় আমাদের দেশে নারী ও শিশুদের একটি বিশাল সংখ্যা বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে যাতায়াত করেন। সেসব বিষয়ে লক্ষ্য করেও আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি। যাতে করে নারী ও শিশুদের কেউ ইভটিজিং কিংবা যৌন হয়রানি না করতে পারে।
এছাড়া ঈদের ছুটির পর ফিরতি যাত্রা যাতে নির্বিঘ্নে হয় সেখানেও র্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে ডিজি বলেন, জাল টাকা, মলম পার্টি ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধেও আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। যেন সবাই ঈদকে উপভোগ করতে পারে সেজন্য আমাদের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
ইনশাল্লাহ আমরা আশাবাদী এবারের ঈদ আমরা নির্বিঘ্নে করতে পারব। আপনারা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছেন এবারের ঈদ যাত্রা টা অন্যান্য বছরের তুলনায় স্বস্তিদায়ক হয়েছে। রাস্তাঘাটে যানজট কম এবং বিভিন্ন টার্মিনালগুলোতেও তুলনামূলক যানজট কম। এছাড়া অপরাধের মাত্রাও কিছুটা কম।







