নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া আর. মাধবন ও ফাতিমা সানা শেখ অভিনীত সিনেমা ‘আপ জাইসা কোই’ দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ছবিটি বিশ্বের ১১টি দেশে নেটফ্লিক্সের টপ-১০ তালিকায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশে ছবিটি প্রথম স্থান দখল করে।
তবে শুধু সংখ্যায় নয়, গল্প, বার্তা ও অভিনয়ের গভীরতায়ও এই ছবি আলাদা করে নজর কেড়েছে দর্শকের। যারাই এই সিনেমাটি দেখছেন তারাই বলার চেষ্টা করছেন, সিনেপ্রেমী সবারই এই সিনেমাটি দেখা উচিত।
কী আছে এই সিনেমায়, যার জন্য সবাই ‘আপ জাইসা কোই’ দেখতে বলছেন? ‘আপ জাইসা কোই’ এমন এক প্রেমের গল্প, যা বলিউডে সচরাচর দেখা যায় না। এখানে প্রেমের বয়স পঁচিশ নয়, বরং পরিণত বয়সে আসা ভালোবাসা ও সম্পর্কের জটিলতা নিয়েই গড়ে উঠেছে গল্প। মধ্যবয়সী মধু ও শ্রীরেনুর মধ্যকার ধীরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক যেন বাস্তব জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।
অনেকে বলছেন, আর. মাধবন ও ফাতিমা সানা শেখের অনবদ্য অভিনয় দেখার জন্য হলেও ‘আপ জাইসা কোই’ সবার দেখা উচিত। আর. মাধবন দীর্ঘদিন পর রোমান্টিক-কমেডি ঘরানায় ফিরে এসেছেন, আর সেই প্রত্যাবর্তন হয়েছে দারুণ সফল। ফাতিমার সঙ্গে তার রসায়ন দর্শক ও সমালোচক উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। তাদের অভিনয়ে রয়েছে সংবেদনশীলতা, বাস্তবতা ও আবেগের পরিণত প্রকাশ।
ফিল্ম ক্রিটিকরা বলছেন, ছবিটিতে প্রেমের পাশাপাশি উঠে এসেছে পিতৃতন্ত্র, ক্ষমা, আত্মপরিচয় ও সম্পর্কের সমতা-র মতো বিষয়। তবে এগুলো কখনোই দর্শককে ক্লান্ত করে না—বরং এক মজার, হালকা, চিন্তন-উদ্রেককারী আবহে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংগীত ও দৃশ্যের কাব্যিকতা নিয়েও অনেকে কথা বলেছেন। করেছেন ভূয়সী প্রশংসা। ছবির সাউন্ডট্র্যাক ইতিমধ্যে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে, ‘লৌট আনে দো হামকো ফির সে দিল মে তুমহারে’— এই গানটি দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কেটেছে। সঙ্গে রয়েছে সিনেমাটোগ্রাফির দৃষ্টিনান্দনিকতা।
দর্শকরা বলছেন, ভালোবাসার নতুন সংজ্ঞা খুঁজে পেতে হলে ‘আপ জাইসা কোই’ দেখা একান্ত প্রয়োজন। ছবির মূল চরিত্র মধু (মাধবন) ও শ্রীরেনু (ফাতিমা)—তাদের প্রথম পরিচয় হয় এক কফি ডেটে। প্রাথমিক সম্পর্ক ইতিবাচক হলেও, তারা সময় নেন নিজেদের বোঝাপড়া গড়তে। তবে সম্পর্কের গতিপথ বাধা পায় পিতৃতন্ত্র, ক্ষমা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং সামাজিক কাঠামোর জটিলতায়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বিবেক সোনি, এটির প্রযোজনায় আছে করণ জোহরের ধর্মাটিক এন্টারটেইনমেন্ট।হিন্দুস্তান টাইমস








