বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে মঞ্চে কোরআন তেলাওয়াত করছেন ইউসুফ আলী নামের এক ব্যক্তি। পূজার আয়োজক কমিটির অনুরোধে কোরআন তেলাওয়াত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও ক্লিপ থেকে ঘটনা জানা যায়। গত রোববার (১৩ অক্টোবর) রাতে বরিশালের জল্লা ইউনিয়নের মুন্সীতালুক গ্রামের তাকাবাড়ি সর্বজনীন শ্রীশ্রী দূর্গা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিজয়া দশমী- দুর্গাপূজা উৎসবের শেষ দিন রাত ৯টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অন্যরা মন্দিরে আসেন। মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস তাদের মঞ্চে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বাদল বিশ্বাস জানান, সুভাষ ঘোষণা করেছিলেন যে বক্তৃতাগুলো গীতা এবং কুরআন উভয়ের আবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত করা হবে। একজন হিন্দু ভক্ত প্রথমে গীতার কয়েকটি লাইন পাঠ করলেন। এরপর মিজানুরের সঙ্গে থাকা ইউসুফ আলী কোরআন তেলাওয়াত করেন।
উপস্থিত অচিন্ত বারোই বলেন, আগে এসব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলত। কিন্তু এবার রাত ১১টার দিকে শেষ হয়, কারণ কোরআন তেলাওয়াতের পর লোকজন অস্বস্তিতে পড়েছিল।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমল হালদার; উজিরপুর বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহদেব চন্দ্র; এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারপারসন রেবা রানী দাসও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে জানতে পারি, পূজা আয়োজকদের অনুরোধে ইউসুফ আলী কোরআন তেলাওয়াত করেন।
বিএনপি নেতা মিজানুর বলেন, আমরা যখন মঞ্চে যাই, তখন গীতা পাঠ করা হয়। তারপর, সুভাষ বারবার আমাকে কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অনুরোধ করেন। তাই, আমি ইউসুফকে জিজ্ঞাসা করি এবং তিনি তা করেন। এটা আমাদের দোষ ছিল না। পূজার আয়োজক অনুরোধ না করলে কেউ কোরআন থেকে তেলাওয়াত করত না।
বারবার চেষ্টা করেও সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
এদিকে উজিরপুর বিএনপি গতকাল এক চিঠিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জল্লা ইউনিয়নের দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করেছে।








