পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সৌন্দর্য-শোভা আরও একবার ছড়াল ক্যামেরুন ও সার্বিয়ার ম্যাচ। আল জানুব স্টেডিয়ামে মঞ্চায়িত হয়েছে হাফ ডজন গোলের রোমাঞ্চ। স্কোর শেষপর্যন্ত ৩-৩।
গ্রুপ জি-তে ব্রাজিল এক ম্যাচ খেলে জিতেছিল সার্বিয়ার বিপক্ষে। পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেলেসাওরা টেবিলের শীর্ষে। এক ম্যাচ খেলা সুইজারল্যান্ডের পয়েন্টও ৩, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে আছে। দুই ম্যাচে এক ড্র ও এক হারে ক্যামেরুন ও সার্বিয়ার পয়েন্ট এক করে। গোল পার্থক্যে ক্যামেরুন তিনে, সার্বিয়া তলানিতে।
সোমবার ম্যাচের ১১ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত সার্বিয়া। সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ে দূরহকোণ থেকে শট নেন অ্যালেক্সান্দার মিত্রোভিচ। গোলরক্ষক সম্পূর্ণ পরাস্ত হলেও ডান পোস্টে লেগে বল ফিরে আসে।
ছয় মিনিট পর আবারও গোলের সুযোগ পান মিত্রোভিচ। প্রতিপক্ষ রক্ষণের খেলোয়াড়দের অভাবনীয় ভুলে সার্বিয়ান স্ট্রাইকার পায়ে বল পেয়ে যান, বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ে শট নেন, কিন্তু পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
খেলার ১৯ মিনিটে ক্যামেরুনের মিডফিল্ডার পিয়েরে কুন্ডের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে ঠেকান সার্বিয়ার গোলরক্ষক ভানজা মিলিনকোভিচ-সাভিচ। ২৯ মিনিটে লিড পায় ক্যামেরুন। কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে হেড পাস দেন নওহু তোলো। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডান পায়ের শটে জালে বল জড়ান ডিফেন্ডার জেন-চার্লস ক্যাস্টেল্লেত্তো। আন্তর্জাতিক ম্যাচে ক্যাস্টেল্লেত্তোর প্রথম গোল।
ম্যাচের ৪৩ মিনিটে কুন্ডের কিক ভানজা পা দিয়ে প্রতিহত করলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। যোগ করা সময়ে সার্বিয়া অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। জোড়া গোল করে। অধিনায়ক দুসান তাদিচের সেট পিস শটে হেডে নিশানাভেদ করেন স্ত্রানজা পাভলোভিচ। বিশ্বকাপে ৩৩৫ মিনিট পর দলটির গোলখরার অবসান হয়।
মিনিট দুয়েক পর ভুল পাসের সুযোগে সার্জে মিলিনকোভিচ-সাভিচ বল নিয়ে আন্দ্রিজা জিকোভিচের সঙ্গে বল আদান প্রদান করেন। পরে বাঁ-পায়ের দূরপাল্লার শটে গোল করে সার্বিয়াকে আনন্দে ভাসান।
বিরতির ঠিক আগে মিত্রোভিচের শট ক্যামেরুনের গোলরক্ষক ডেভিস এপাসি না ঠেকালে স্কোর ৩-১ হতে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজাতে থাকে সার্বিয়া। ৫৩ মিনিটে পাসিং ফুটবলের নৈপুণ্য দেখিয়ে আন্দ্রিজা জিকোভিচের অ্যাসিস্টে বল পেয়ে ডান পায়ের আলতো ছোঁয়ায় জালে জড়ান মিত্রোভিচ।
এরপর নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের নজির গড়ে ক্যামেরুন। ৬৩ মিনিটে ক্যাস্টেল্লেত্তো নিজেদের অর্ধ থেকে লম্বা পাস দেন। বদলি নামা ভিনসেন্ট আবুবাকার গোলরক্ষককে একা পেয়ে ডান পায়ের ভলিতে জালে বল জড়ান। অফসাইফের কারণে তা বাতিল হয়। ভিএআরে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়, রেফারি অফসাইডের সিদ্ধান্ত বাতিল করে গোলের বাঁশি বাজান।
তিন মিনিট পর আরও একটি লম্বা পাসের ভেল্কি দেখায় ক্যামেরুন। পাল্টা আক্রমণে আবুবাকারের থেকে বল নিয়ে বক্স হতে বাঁ-পায়ে নিশানাভেদ করেন এরিক ম্যাক্সিম চুপো-মোটিং। খেলা জমে ওঠে।
স্কোর ৩-৩ হয়ে যাওয়ার পর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দুদল উপহার দেয় রোমাঞ্চকর ফুটবল। একাধিক গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ৮৯ মিনিটে তাদিচের পাসে বল পাওয়া মিত্রোভিচের শট পোস্টের পাশ দিয়ে যায়। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মিত্রোভিচ বক্সে ঢুকে পড়লে এপাসি সামনে এগিয়ে বল হাত দিয়ে ঠেকিয়ে ক্যামেরুনকে রক্ষা করেন।







