পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের অন্যতম বহুসাংস্কৃতিক এলাকা রুয়া দো বেনফরমোসোতে বর্ণবাদ, ফ্যাসিবাদ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে এক শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিত প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি লিসবনের সামাজিক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
এই প্রতিবাদে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অভিবাসী সম্প্রদায়ের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী এবং শিশুদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক অনন্য বহুজাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা বহন করে ঘৃণার বিরুদ্ধে ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।
মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যেখানে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ এবং মানবাধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরা হয়। “বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি”, “ঘৃণার কোনো স্থান নেই”, “সকল মানুষের সমান অধিকার” এমন নানা স্লোগানে মুখর ছিল পুরো রাস্তাটি। স্লোগানের পাশাপাশি সংগীত, সাংস্কৃতিক প্রকাশ এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিবাদের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্ণবাদী আচরণ ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা মনে করেন, লিসবনের মতো একটি বৈচিত্র্যময় শহরে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা বজায় রাখা শুধু সরকারের নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের একজন বলেন, আমরা এখানে কাজ করি, বসবাস করি এবং এই সমাজেরই অংশ। তাই যেকোনো ধরনের বৈষম্য বা ঘৃণার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জানানো জরুরি। অন্য এক অংশগ্রহণকারী জানান, এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং আমরা অনুভব করি যে আমরা একা নই।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি কখনোই টেকসই নয়। বরং এটি সমাজে অস্থিরতা ও সহিংসতার জন্ম দেয়। তাই একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচির পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি শেষ হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বহুজাতিক অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি শুধু বর্ণবাদ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করে না, বরং সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও সংহতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লিসবনের এই প্রতিবাদ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমগ্র কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি যৌথ বার্তা দেন জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ভাষা নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই একটি উন্নত ও মানবিক সমাজের মূল ভিত্তি।








