কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বোরি) মহাপরিচালক পদে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে নিয়োগে প্রস্তাবের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) বোরিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও বিকেলে কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা বলেন, বোরির মতো একটি বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সামরিক কর্মকর্তা নিয়োগ নজিরবিহীন। তারা এই পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং একজন প্রতিষ্ঠিত গবেষককে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানান।
গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর মো. মিনারুল হককে সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীর সই করা প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির ৫২জন বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই নিয়োগ পুর্নবিবেচনার দাবি করে গত ৯ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি দেন। এরপর ১৩ অক্টোবর তারা বোরিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। মঙ্গলবার অর্ধ দিবস এবং সোমবার দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছিল।
মঙ্গলবার দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষক বোরিতে মহাপরিচালক পদে সামরিক কর্মকর্তা নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে শিক্ষকরা বলেন, বোরির মতো সমুদ্রবিদ্যার বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে একজন সামরিক কর্মকর্তার নিয়োগ তাদের চরমভাবে হতাশ করে।
তারা বোরির শীর্ষপদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং একজন প্রতিষ্ঠিত গবেষককে নিয়োগ দেয়া অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে লেখেন, যিনি সমুদ্রবিদ্যা গবেষণায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এবং বিজ্ঞানীদের যুগোপযোগী পরামর্শ দিয়ে বোরিকে একটি কর্মক্ষম, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। অন্যথায় এই বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি স্থবির হয়ে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে।







