বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর এফডিসিতে ‘জনপ্রত্যাশা পূরণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতিকে সচল রাখতে ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। অধিকাংশ ব্যবসায়ীই দেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে চান। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় অনেক ক্ষেত্রে প্রতিহিংসামূলক আচরণের কারণে সবাই ন্যায্য বিচার পান না। তাই ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, যারা অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চান, তাদের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। প্রয়োজনে যাচাই-বাছাই করে বন্ধ হয়ে থাকা ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব চালু করা যেতে পারে। তবে অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংককে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনীতিকরণের ফলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির পরিমাণ বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, নতুন সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তিনি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মামলা, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও ব্যবসা পরিচালনায় বাধার কারণে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন অপপ্রচার হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিরণ বলেন, নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর ন্যাশনাল ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। তিনি জানান, আগের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সময়ই ন্যাশনাল ব্যাংক ও এবি ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা করে এবং প্রিমিয়ার ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
ছায়া সংসদে “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমেই নতুন সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যাবে” শীর্ষক বিতর্কে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, জাকির হোসেন, রিজভী নেওয়াজ এবং রেফায়েত উল্লাহ মীরধা।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।







