চট্টগ্রাম

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় চাকরিচ্যুত হলেন নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ

অধ্যক্ষের সাথে শিশুর ছবি, নার্সিং ইনস্টিটিউটের ঘটনা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

অধ্যক্ষের সাথে শিশুর ছবি, নার্সিং ইনস্টিটিউটের ঘটনার ছবি, যেখানে একজন মহিলা শিশুকে ধরে আছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

পর পর দুই বছর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম ইমপেরিয়াল কলেজ অব নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ডলি আক্তারকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ মধ্যরাতে তার আট মাস বয়সী শিশুসহ তাকে কলেজের হোস্টেল থেকে বের করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ।

শনিবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নগরীর খুলশীর অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতাল পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ডলি আক্তারের অভিযোগ, কোন কারণ না দেখিয়ে এক দিনের নোটিশে নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ইমপেরিয়াল কলেজ অব নার্সিং ইনস্টিটিউট ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল পরিচালিত। কলেজটির অধ্যক্ষকে নিয়োগ ও চাকরিচ্যুত করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ নিয়োগ কমিটির অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেটিও না মেনে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ডলি আক্তারের।

চাকরিচ্যুত করার নোটিশে দেখা যায়, অধ্যক্ষ ডলিকে চাকরিচ্যুত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অধ্যক্ষ ডলিকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মো. আরিফুর রহমানের সই করা নোটিশটি ৯ অক্টোবর জারি করা হয়।

চাকরিচ্যুত অধ্যক্ষ ডলি আক্তার বলেন, পরপর দুই বছর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় কোনো কারণ না দেখিয়ে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মধ্যরাতে হোস্টেল থেকে বের করে নগরীর একটি হোটেলে রেখে আসে ইমপেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড (বর্তমানে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হসপিটাল) কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, গত বছর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী চার মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়েছিলাম। এরপর অসুস্থতার কারণে গত ২১ সেপ্টেম্বর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. দিল আনজিজের কাছে যাই। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে পুনরায় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই। এ অবস্থায় কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করতে থাকে এবং মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলতে থাকে ‘আপনি গত বছরও চার মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছিলেন এবং এই বছরও আবার ছুটি নেবেন, তাই আপনি পদত্যাগপত্র দিয়ে বিদায় নিয়ে নিন’।

তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ না করায় ৯ অক্টোবর সকালে কর্তৃপক্ষ মানব সম্পদ বিভাগে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তৎক্ষণাৎ পদত্যাগপত্র দিতে বলে। অন্যথায় টার্মিনেট করা হবে বলেন। এরপর আমি পদত্যাগ করব না জানালে তখন একটি চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেয় ও তৎক্ষণাৎ কলেজ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র কলেজ সেক্রেটারির কাছে বুঝিয়ে দিয়ে কলেজ হোস্টেল ছেড়ে দেয়ার জন্য বলে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মো. আরিফুর রহমান সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সূত্র: ইউএনবি

বিষয়:চাকরিচ্যুত

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…