বুধবার (১৬ অক্টোবর) প্রয়াত হন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদের সাবেক উপনেতা এবং রাজনীতির মাঠে ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে পরিচিত বেগম মতিয়া চৌধুরী। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে বিনোদন ও সাংষ্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের। তাদের অন্যতম জনপ্রিয় সুরকার প্রিন্স মাহমুদ।
বহু কালজয়ী গানের এই গীতিকার ও সুরকার জানান, রাজধানীতে মতিয়া চৌধুরী যে বাসায় বাস করতেন, তিনিও দীর্ঘদিন পরিবারসহ একই বাসায় থাকতেন। যার ফলে খুব কাছ থেকে দেখেছেন এই প্রবীন রাজনীতিবীদের জীবনদর্শন।
মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুর খবরে প্রথমে প্রিন্স মাহমুদ লেখেন, “মতিয়া চৌধুরী আপা নাই। আপা গত তিন মাস ধরে বেশ অসুস্থ ছিলেন। আমার দেখা খুব কম সংখ্যক সৎ মানুষের ভেতর একজন। সবাই আপাকে শ্রদ্ধায় এবং দোয়ায় রাখবেন…।”
বুধবার রাতে আরেকটি পোস্টে মতিয়া চৌধুরীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন প্রিন্স মাহমুদ। বলেন,“বজলু ভাই আর মতিয়া আপা দুজনেই নাই। দুজনের সাথে আমার গানের সম্পর্ক ছিল। কাজের নয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের নয়। কাল আমাদের বাসায় আপার জানাজা। আমি জ্বর নিয়ে খুলনায়। শেষ দেখা দেখতে পারলাম না।”
ব্যক্তিগত পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে এই গীতিকার ও সুরকার লিখেন,“২৫ বছর পাশাপাশি থেকেছি। ১৫ বছর আগে এই বাসা ছোট বলে ছেড়ে দিয়েছিলাম আপা অন্য ফ্ল্যাট ওনারদের বলে বাসা ঠিক করে আমাকে আবার ফিরিয়ে আনেন। সবাইকে ডেকে বলছেন প্রিন্স আমাদের সম্পদ ওকে এলাকা ছেড়ে যেতে দেয়া যাবেনা। বাড়িয়ে বলছিনা। অনেক স্মৃতি, অনেক। চোখ থেকে পানি থামছেই না।”
মতিয়াকে নিয়ে তিনি বলেন,“আগস্ট ৫ এর পর থেকে প্রায় প্রতিদিন আপাকে দোয়ায় রেখেছি মহান আল্লাহ যেন আপার সম্মান রক্ষা করেন। আল্লাহ আপাকে সম্মানের সাথে নিয়ে গেছেন। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি নেই। এখন যে যাই বলুক, যা খুশি মনে করুক কিছু আসে যায় না। আপার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া চলতেই থাকবে…।”
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরেও মতিয়া চৌধুরীকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন প্রিন্স মাহমুদ। ১৪ আগস্ট দেয়া সেই পোস্টে তিনি লিখেন,“একটা সত্য না বললে অন্যায় হবে। মতিয়া চৌধুরীর মত একটা সৎ মানুষ এখন একেবারে নাই বললে চলে। একটা টাকা কোনোদিন অন্যায় পথে রোজগার করেন নাই। সারাজীবন একটা ৯০০ স্কয়ারফিটের বাসায় থেকে গেলেন। আমরা একটা সময় কিছুদিন সুবিধা পেতাম কারেন্ট যেত না। আপা একদিন ফোন করে বললেন সব বাসায় যেমন কারেন্ট থাকে এখানেও তাই থাকবে। সুবিধা দরকার নাই। এরকম শত ঘটনা আছে। ২৫ বছরে প্রথম আপা এখান থেকে চলে গেছে। শরীর ভাল ছিল না। যারা আপাকে দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন, যত্ন নিয়েন। হেলা ফেলা করবেন না। এইরকম মানুষ ক্ষণজন্মা, সহসা জন্ম নেয় না..।”
বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।








