ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের মধ্যে অনেকটা এগিয়েই থাকে প্রিমিয়ার লিগ। ইংলিশ ফুটবলের উম্মাদনা ও মাঠের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। যে লিগে হরহামেশা ঘটে অঘটনও। প্রথমে ইংলিশ লিগ নামে পরিচিত থাকলেও ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে আবির্ভাব হয় প্রিমিয়ার লিগ নামে। এপর্যন্ত ৩২ মৌসুম মাঠে গড়িয়েছে লিগটির। যেখানে খেলেছেন বিশ্বের নামি-দামী সব ফরোয়ার্ড। দেখে নেয়া যাক প্রিমিয়ার লিগের সেরা দশ স্ট্রাইকার কারা।
আর্লিং হালান্ড: সেরার দৌড়ে এখন প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন এমন স্ট্রাইকারদের মধ্যে নরওয়ে তারকা আর্লিং হালান্ডের নাম আসবে সবার আগে। বরুশিয়া থেকে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখানোর পর থেকে হরেক চিত্রপটই পাল্টে দিচ্ছেন। প্রথম মৌসুমে লিগে ৩৬ গোল করে অ্যালান শিয়েরার ও অ্যান্ডি কোলের রেকর্ড ভেঙেছেন।
প্রিমিয়ার লিগে ঘরে মাঠে ম্যাচ প্রতি গড়ে একটি গোল করেছেন হালান্ড। সিটি জার্সিতে আছে আটটি হ্যাটট্রিক। আগের তিন মৌসুমসহ এপর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে ১০১ ম্যাচ খেলে ৯০ গোল করেছেন। চলতি মৌসুমে চার ম্যাচে করেছেন পাঁচ গোল। চলতি মৌসুমে তার সামনে হাতছানি দিচ্ছে প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার। এর আগে যা করে দেখিয়েছেন ৩৪ ফুটবলার।
মোহাম্মেদ সালাহ: গত মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, মিশরীয় তারকা স্ট্রাইকার মোহাম্মেদ সালাহ জ্বলছেন কয়েক মৌসুম ধরেই। অলরেডদের হয়ে এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩৬ ম্যাচে করেছিলেন ৩২ গোল। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে শেষ ম্যাচে বার্নলির বিপক্ষে নিজের ১৮৮তম গোলটি করে প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলস্কোরার হয়েছেন। গতবছর লিভারপুলের সঙ্গে দুবছরের চুক্তি বাড়িয়েছেন সালাহ। প্রিমিয়ার লিগে তার উপরে থাকা ওয়েইন রুনির ২০৮ ও হ্যারি কেনের ২১৩ গোল টপকাতে পারবেন ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে।
হ্যারি কেন: ২০১৪-১৫ মৌসুমে টটেনহ্যাম হটস্প্যারের হয়ে ২১ গোল করেছেন প্রিমিয়ার লিগে। তখন এক মৌসুমের বিস্ময় বলেও সমালোচনায় পড়েন। ক্লাবটির হয়ে একদশক পার করে প্রিমিয়ার লিগ না জিতলেও তিনটি গোল্ডেন বুটসহ ২১৩ গোল করে গেছেন জার্মানিতে। প্রিমিয়ার লিগে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কেনের ঝুলিতে নেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়ে হেরেছেন। সে লক্ষ্যে বুন্দেসলিগায় খেলতে বায়ার্ন মিউনিখে নাম লিখিয়েছেন।

থিয়েরি অঁরি: প্রিমিয়ার লিগের সেই ইনভিন্সিবল আর্সেনাল। নাম শোনেননি খুব কম ফুটবল সমর্থকই। সেই আর্সেনালের অন্যতম একজন ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি। তিনি অ্যান্ডি কোল, অ্যালান শিয়েরারের পর প্রথম এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩০ গোল করেন। সেটিও ২০০৩-০৪ মৌসুমে। ফ্রান্স কিংবদন্তি অঁরির প্রিমিয়ার লিগে গোলসংখ্যা ১৭৫।
অ্যান্ডি কোল: প্রিমিয়ার লিগে ৩২ বছর আগে অভিষেকের পর থেকে এখনও রয়ে গেছে লিগটির সেরা পাঁচ গোলস্কোরারের তালিকায়। ১৯৯৫ সালে যখন নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে পাড়ি জমান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে, তখন সবচেয়ে দামি ইংলিশ ফুটবলার ছিলেন কোল। ১৮৭ গোল করে গেছেন প্রিমিয়ার লিগে। সঙ্গী ছিলেন রেড ডেভিলদের পাঁচবার প্রিমিয়ার লিগ জয়ের।
ওয়েইন রুনি: ইউনাইটেডের আরেক নক্ষত্র ওয়েইন রুনি, প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের মালিক। এভারটন থেকে যখন ম্যানচেস্টারে নাম লেখান, বয়স সবে ষোলো। নাম জুটেছিল সাদা পেলে। কথা রেখেছিলেন কিছুটা। রেড ডেভিলদের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল তার। পাঁচবার লিগ শিরোপাও আছে তার ঝুলিতে।

সার্জিও অ্যাগুয়েরো: অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ২০১১ সালে নাম লিখিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। তখন চড়ামূল্যে তাকে আনার পর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ক্লাবটিকে। তার গোলেই সিটি পায় ২০১১-১২ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ টাইটেল। যা তাদের প্রথম লিগ শিরোপা ছিল। নিজের সপ্তম মৌসুমে নাম লেখান ক্লাবটির সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হিসেবে। ১৩০ ম্যাচে ১৮৪ গোল রেখে গেছেন।

মাইকেল ওয়েন: লিভারপুলের স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন ২০০১ সালে যখন ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন, তার আগে ২১ বছর কোন ইংলিশ ফুটবলার জেতেনি পুরস্কারটি। তারপর এখনও কোন ইংলিশ ফুটবলার আর জেতেননি ব্যালন। প্রিমিয়ার লিগে ৩২৬ ম্যাচে ১৫০ গোল করে গেছেন ওয়েন।
এরিক ক্যানটোনা: ফ্রেঞ্চ কিংবদন্তি ক্যানটোনা প্রিমিয়ার লিগে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে ১৩ ম্যাচে ৬ গোল করেছিলেন। পরের মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নাম লিখিয়ে খেলেছেন ছয় মৌসুম। প্রিয়য়ার লিগে ১৫৭ ম্যাচে করেছেন ৭০ গোল।

অ্যালান শিয়েরার: ব্লাকবার্ন বোভার্সের হয়ে ১৯৯৫ সালে প্রিমিয়ার লিগ জেতেন অ্যালান শিয়েরার। পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ঠিকানা না গড়ে বেছে নিয়েছিলেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে। প্রিমিয়ার লিগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ মৌসুমে জিতেছেন টানা তিনবার গোল্ডেন বুট। এরপর ইতিহাস, প্রিমিয়ার লিগে প্রতিপক্ষের জালে সবচেয়ে বেশিবার বল পাঠিয়েছেন তিনি। ব্লাকবার্ন ও নিউক্যাসলের হয়ে ১৩ মৌসুমে ৪৪১ ম্যাচে গোল করেছেন ২৬০টি। যা এখনও সর্বোচ্চ।








